
বিহারের কিষাণগঞ্জের বরখাস্ত এসডিপিও গৌতম কুমারকে ঘিরে আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদের মামলায় উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার তাঁর বিলাসবহুল জীবনযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামনে এসেছে এক পরিচারিকার ভূমিকাও, যা তদন্তে নতুন মোড় এনেছে।
অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা (ইওইউ) সূত্রে জানা গিয়েছে, পারো নামে ওই গৃহকর্মী কুমারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্রে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছিলেন। অভিযোগ, কুমারের হয়ে আর্থিক লেনদেন সামলাতেন তিনি এবং তাঁর প্রভাব ব্যবহার করেই এই সম্পদ গড়ে ওঠে। একটি থার এসইউভি ও রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি এবং নগদ টাকার স্তূপ নিয়ে তাঁর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
পারোর বিরুদ্ধে আলাদা করে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, কিষাণগঞ্জ, পাটনা ও পূর্ণিয়া জুড়ে অভিযানে প্রায় ৮০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পত্তি উদ্ধারের পর গত ৭ এপ্রিল বিহার সরকার গৌতম কুমারকে বরখাস্ত করে। এরপরই তদন্তে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসতে শুরু করে।
ইওইউ-র তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কুমার তাঁর এক নারী বন্ধুর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যেই বিপুল সম্পদ জোগাড় করছিলেন। এমনকি তাঁকে কিষাণগঞ্জ থেকে প্রার্থী করার প্রস্তুতিও চলছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। পাশাপাশি, ২০৩০ সালে অবসর নেওয়ার পর নিজেও রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
তদন্তে আরও বিস্ফোরক দাবি উঠে এসেছে, পূর্ণিয়ায় ১৬টি প্লট কিনে সেগুলি তিনি তাঁর সাতজন প্রেমিকা, চারজন স্ত্রী, তিনজন শাশুড়ি এবং এক ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করেছিলেন। এছাড়াও শিলিগুড়িতে তাঁর সঙ্গে যুক্ত একটি চা বাগান, একটি বাংলো এবং একটি দোতলা বাড়ির হদিশ পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
সব মিলিয়ে, কীভাবে এত বিপুল অবৈধ সম্পদ সংগ্রহ ও স্থানান্তর করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলেও।