Advertisement

কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই, সিয়া কি ছাড়া পেয়ে যাবে? পলিগ্রাফ টেস্ট করতে চায় পুলিশ

১৮ জুন সকালে পুনের লোহাগড় দুর্গে ঠিক কী ঘটেছিল? কেতন আগরওয়াল কি দুর্ঘটনাবশত ৩৪০ ফুট গভীর খাদে পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল? যদি ধাক্কা দিয়েই ফেলে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেই কাজ কে করেছিল? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, প্রত্যক্ষদর্শী বা সরাসরি প্রমাণ ছাড়াই কি পুনে পুলিশ আদালতে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সিয়া গোয়েল।-ফাইল ছবিসিয়া গোয়েল।-ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 01 Jul 2026,
  • अपडेटेड 9:53 AM IST
  • ১৮ জুন সকালে পুনের লোহাগড় দুর্গে ঠিক কী ঘটেছিল?
  • কেতন আগরওয়াল কি দুর্ঘটনাবশত ৩৪০ ফুট গভীর খাদে পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল?

১৮ জুন সকালে পুনের লোহাগড় দুর্গে ঠিক কী ঘটেছিল? কেতন আগরওয়াল কি দুর্ঘটনাবশত ৩৪০ ফুট গভীর খাদে পড়ে গিয়েছিলেন, নাকি তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল? যদি ধাক্কা দিয়েই ফেলে দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেই কাজ কে করেছিল? আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, প্রত্যক্ষদর্শী বা সরাসরি প্রমাণ ছাড়াই কি পুনে পুলিশ আদালতে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই তদন্ত এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তকারীরা এবার সিয়া গোয়েলের পলিগ্রাফ (লাই ডিটেক্টর) পরীক্ষার কথা ভাবছেন। প্রয়োজনে আদালতের অনুমতি চাওয়া হবে। তদন্তকারীদের ধারণা, সিয়া যদি পরীক্ষায় সম্মতি দেন, তাহলে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে, যা তদন্তকে নতুন দিশা দেখাবে। তবে আইনের দৃষ্টিতে আদালতের অনুমতি এবং অভিযুক্তের সম্মতি ছাড়া এই পরীক্ষা করা যায় না। পাশাপাশি, পলিগ্রাফের ফলাফল আদালতে স্বতন্ত্র বা চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবেও গ্রহণযোগ্য নয়।

এখনও পর্যন্ত এই মামলায় পুলিশের সবচেয়ে বড় ভরসা পারিপার্শ্বিক ও ডিজিটাল প্রমাণ। ঘটনাস্থলে কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই, যে জায়গা থেকে কেতন পড়েছিলেন সেখানে কোনও সিসিটিভিও ছিল না। তাই তদন্ত এগোচ্ছে সিয়া ও চেতন চৌধুরীর মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ, কল ডিটেল রেকর্ড (CDR), কথিত মুছে ফেলা চ্যাট, লোকেশন ডেটা, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণ এবং বিভিন্ন সাক্ষীর বয়ানের ওপর ভিত্তি করে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মামলায় কেবল প্রেমের সম্পর্ক বা ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করলেই হত্যার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয় না। তদন্তকারীদের দেখাতে হবে যে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত অপরাধ ছিল এবং সেই পরিকল্পনার সঙ্গে ডিজিটাল ও অন্যান্য প্রমাণের স্পষ্ট যোগসূত্র রয়েছে। আদালত দেখবে, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, অভিযুক্তদের আচরণ এবং সংগ্রহ করা সমস্ত প্রমাণ কি একই দিকে ইঙ্গিত করছে, নাকি অন্য কোনও সম্ভাবনাও রয়ে গেছে।

Advertisement

তদন্তে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। সিয়ার পরিবারের দাবি, তিনি একা ট্রেকিংয়ে যেতে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না এবং কেতনের সঙ্গে যাওয়া নিয়েও অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। অন্যদিকে, পুলিশ স্বাধীনভাবে এই দাবি যাচাই করছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) করে অভিযুক্তদের বয়ানের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল খুঁজে দেখার চেষ্টা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্নির্মাণ তদন্তে সহায়ক হলেও, সেটি একাই দোষ প্রমাণের ভিত্তি হতে পারে না।

এই পরিস্থিতিতে পলিগ্রাফ পরীক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, পরীক্ষার মাধ্যমে যদি নতুন কোনও সূত্র পাওয়া যায়, তাহলে সেই সূত্র ধরে স্বাধীন প্রমাণ সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে শুধু লাই ডিটেক্টরের রিপোর্টের ভিত্তিতে কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা যায় না।

বর্তমানে এই মামলায় পুলিশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র পারিপার্শ্বিক প্রমাণের শৃঙ্খল। সেই শৃঙ্খল আদালতে কতটা শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে মামলার ভবিষ্যৎ। একইসঙ্গে তদন্তকারীদের সামনে এখনও বড় প্রশ্ন, সিয়া কি শেষ পর্যন্ত সত্যিই মুখ খুলবেন, নাকি এই রহস্যের জট আরও দীর্ঘ হবে?

 

Read more!
Advertisement
Advertisement