Advertisement

TMC Leader Arrested In North Dinajpur: হেমতাবাদে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের পর্দাফাঁস, প্রাক্তন মন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী দাপুটে তৃণমূল নেতা গ্রেফতার

রবিবার ভোররাতে একবারে ফিল্মি কায়দায় মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে হেমতাবাদ থানার পুলিশ। এই প্রভাবশালী শাসকদলের নেতা গ্রেফতার হতেই উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

TMC Leader Arrested In North Dinajpur: হেমতাবাদে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের পর্দাফাঁস, প্রাক্তন মন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী দাপুটে তৃণমূল নেতা গ্রেফতারTMC Leader Arrested In North Dinajpur: হেমতাবাদে আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের পর্দাফাঁস, প্রাক্তন মন্ত্রীর ছায়াসঙ্গী দাপুটে তৃণমূল নেতা গ্রেফতার
Aajtak Bangla
  • হেমতাবাদ (উত্তর দিনাজপুর),
  • 14 Jun 2026,
  • अपडेटेड 11:55 PM IST

TMC Leader Arrested In North Dinajpur: ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতার কেটে গোরু এবং মারাত্মক মাদক পাচারের অভিযোগে উত্তর দিনাজপুরে গ্রেফতার হলেন এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা। ধৃতের নাম আলী সাকিরুল ইসলাম। তিনি বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোগ্ৰামের বাসিন্দা এবং ওই অঞ্চলের তৃণমূলের দাপুটে অঞ্চল সভাপতি পদে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি হেমতাবাদের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সত্যজিৎ বর্মনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে পরিচিত। রবিবার ভোররাতে একবারে ফিল্মি কায়দায় মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে হেমতাবাদ থানার পুলিশ। এই প্রভাবশালী শাসকদলের নেতা গ্রেফতার হতেই উত্তর দিনাজপুরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে বেশ কিছুদিন ধরেই হেমতাবাদের ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় একটি কুখ্যাত চোরাচালানের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। সম্প্রতি হেমতাবাদের বামর বিওপি এলাকায় বিএসএফ ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তের কাঁটাতার কেটে ১২টি গোরু ওপার বাংলায় পাচার করে দেয় দুই বাংলাদেশি দুষ্কৃতী। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে ওই দুই বাংলাদেশি পাচারকারীকে পাকড়াও করে এবং তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে। এরপরই ধৃত বাংলাদেশিদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই এই দাপুটে তৃণমূল নেতা আলী সাকিরুল ইসলামের নাম উঠে আসে। পুলিশ জানতে পারে যে সীমান্ত পেরিয়ে গোরু পাচার থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ বা ফেনসিডিল এবং ব্রাউন সুগারের মতো মারাত্মক মাদক পাচারের মূল পাণ্ডা বা ‘কিংপিন’ ছিলেন খোদ এই অঞ্চল সভাপতি।

মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে পাকড়াও
বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের বয়ান পাওয়ার পর থেকেই সাকিরুলকে ধরার জন্য জাল বুনতে শুরু করে পুলিশ। অবশেষে রবিবার ভোররাতে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মাকরহাট এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে সাকিরুলের লুকিয়ে থাকার খবর মেলে। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে হেমতাবাদ থানার পুলিশ সেখানে অতর্কিতে হানা দিয়ে এই স্মাগলার নেতাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এবার ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা আইনের কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিন দুপুর দুটো নাগাদ ধৃত তৃণমূল নেতাকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বা সিজেএম আদালতে তোলা হয়। তদন্তের গভীরতা এবং আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের শিকড় খুঁজতে পুলিশ ১০ দিনের হেফাজত চাইলেও বিচারক ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

একশো জনের গ্যাং এবং বেআইনি বালি পাচারের নতুন সিন্ডিকেট
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ধৃত আলী সাকিরুল ইসলাম শুধু গোরু বা মাদক পাচারই নয় উত্তর দিনাজপুরের নাগর ও কুলিক নদী থেকে বেআইনিভাবে বালি পাচারের সিন্ডিকেটের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। হেমতাবাদ থানার আইসি সুজিত লামা এই আন্তর্জাতিক চক্রের পর্দাফাঁস করে জানান যে ধৃত সাকিরুলের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই ফোনে একাধিক সন্দেহভাজন ভারতীয় ও বাংলাদেশি নম্বর পাওয়া গিয়েছে। পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এখনও পর্যন্ত তদন্তে এই সাকিরুলের গ্যাং এ প্রায় ১০০ জন সক্রিয় দুষ্কৃতীর নাম পাওয়া গিয়েছে যার মধ্যে সিংহভাগই ওপার বাংলার কুখ্যাত পাচারকারী ও অপরাধী।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement