
মর্মান্তিক, নৃশংস, ভয়াবহ। বারুইপুরে যা ঘটেছে, তা ব্যাখ্যা করতে সব বিশেষণই কম পড়তে পারে। বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। ইতিমধ্যেই ধর্ষণ ও খুনে মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, দিবাকর সর্দার ও প্রভাস মণ্ডল। এখনও পর্যন্ত পুলিশ সূত্রের খবর, আনন্দ সর্দারই মূল অভিযুক্ত।
শরীরে আঁচড় ও কামড়ের দাগ ভর্তি
বারুইপুরে নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট মিলেছে। তাতে রয়েছে, প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। শরীরে আঁচড় ও কামড়ের দাগ ভর্তি। তারপর তার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করে অচেতন করা হয়। তারপর বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। বস্তায় ভরার পরেও ওই নাবালিকার প্রাণ ছিল। কিন্তু বস্তাবন্দি অবস্থায় পুকুরে ডুবে মৃত্যু হয়।
জলে ডুবে গিয়েই নাবালিকার মৃত্যু
ওই নাবালিকার পাকস্থলী ও ফুসফুস জল ঢুকে ফুলে গিয়েছে। মাথার ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে। জলে ডুবে গিয়েই নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে।
শনিবার বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বেরোয় ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী। তারপর থেকেই আর খোঁজ মিলছিল না। রবিবার ৫ জুলাই সকালে বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। তারপরেই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দেহ রাস্তায় রেখে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে বিক্ষোভ। নাবালিকাকে খুনের অভিযোগের মামলার পাশাপাশি গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু নিয়েও দায়ের হয়েছে মামলা। পুলিশের গাড়িতে আগুন ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগেও পৃথক মামলা রুজু হয়েছে।
বারুইপুরে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী
নাবালিকার বাবার সঙ্গে রবিবারই ফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আজও শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, 'বারুইপুরের ঘটনায় দোষীদের ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে।' অর্থাত্ মৃত্যুদণ্ড। এখনও পর্যন্ত খবর, ৭ জুলাই অর্থাত্ মঙ্গলবার বারুইপুরে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।