Advertisement

প্রেমিকের সঙ্গে ঘর করার ইচ্ছা, সুপারি কিলার দিয়ে স্বামীকে খুন করাল স্ত্রী

গোঁদিখেড়া চারণ গ্রামের বাসিন্দা দেবকৃষ্ণ রোহিত ও তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা একসঙ্গে থাকতেন। সম্প্রতি বাড়িতেই খুন হন দেবকৃষ্ণ। প্রথমে জানা যায়, রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেবকৃষ্ণকে আক্রমণ করে এবং তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে বেঁধে রেখে লুটপাট চালায়।

এই সেই প্রিয়াঙ্কা এই সেই প্রিয়াঙ্কা
Aajtak Bangla
  • ইন্দোর ,
  • 09 Apr 2026,
  • अपडेटेड 5:43 PM IST
  • স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্র। তারপর সেই ষড়যন্ত্র ধামা চাপা দিতে নাটক
  • নিজেই স্বামীকে খুন করিয়ে সেই মহিলা এমন গল্প ফাঁদেন যে, আশপাশের লোকজনও বিশ্বাস করে নেন

স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্র। তারপর সেই ষড়যন্ত্র ধামা চাপা দিতে নাটক। নিজেই স্বামীকে খুন করিয়ে সেই মহিলা এমন গল্প ফাঁদেন যে, আশপাশের লোকজনও বিশ্বাস করে নেন। তাঁরা পাশে দাঁড়ান মহিলার।  কিন্তু পরে যখন গোটা ঘটনা সামনে আসে তখন অবাক না হয়ে পারেননি এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনা মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার। 

গোঁদিখেড়া চারণ গ্রামের বাসিন্দা দেবকৃষ্ণ রোহিত ও তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা একসঙ্গে থাকতেন। সম্প্রতি বাড়িতেই খুন হন দেবকৃষ্ণ। প্রথমে জানা যায়, রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দেবকৃষ্ণকে আক্রমণ করে এবং তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কাকে বেঁধে রেখে লুটপাট চালায়। ঘটনার পর প্রিয়াঙ্কা সব জানায় গ্রামের লোকজনকে। তিনি জানান, দুষ্কৃতীরা বাড়িতে এসে তাঁর স্বামীকে খুন করে ও তাঁকে ঘরে বেঁধে রেখে লুটপাট চালায়। পুলিশকেও একই বয়ান দেন তিনি। 

তবে পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীরা প্রিয়াঙ্কার বয়ানে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। ঘরে দুষ্কৃতীদের জোর করে ঢোকার কোনও চিহ্ন খুঁজে পাননি। এখান থেকেই সন্দেহের সূত্রপাত। এরপর কল ডিটেলস, মোবাইল লোকেশন ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে ধীরে ধীরে প্রিয়াঙ্কার মিথ্যা ধরা পড়ে যায় । কড়া জেরার মুখে শেষমেশ তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। 

তদন্তে জানা যায়, প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে একই গ্রামের কমলেশ নামে এক যুবকের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্ককে ঘিরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো। পরিবারের দাবি, প্রিয়াঙ্কা বারবার বাপের বাড়ি চলে যেতেন। আরও জানা যায়, তাঁদের বিয়ে হয়েছিল অল্প বয়সে। তাই তিনি স্বামীর ঘর করতে চাননি। দুই পরিবারের অশান্তির কথা জানতেন স্থানীয়রা। কমলেশের সঙ্গে মিলেই ওই মহিলা স্বামীকে খুনের চক্রান্ত করেন। 

দেবকৃষ্ণকে খুন করার জন্য প্রিয়াঙ্কার প্রেমিক কমলেশ সুরেন্দ্র নামক একজনকে খুনের সুপারি দেয়। সেজন্য তাকে দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা। ঘটনার রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী সুরেন্দ্র বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত দেবকৃষ্ণের উপর হামলা চালায়। এরপর প্রিয়াঙ্কাকে বেঁধে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পরে তাঁকে চিৎকার করতে বলা হয়, যাতে প্রতিবেশীরা জড়ো হয়। প্রিয়াঙ্কা সব করেন। কিন্তু, তিনি পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়েন। তার জেরে সব পরিকল্পনা মাটি হয়ে যায়। 

Advertisement

পুলিশ মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার রহস্য ভেদ করে। এসপি ময়ঙ্ক অবস্থীর নেতৃত্বে দল প্রিয়াঙ্কা ও কমলেশকে গ্রেফতার করে। লুটের সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়। দেবকৃষ্ণের মা ও বোনের অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে কমলেশের সম্পর্ক ছিল সেই ২০২০ সাল থেকে। সেই থেকেই অশান্তি বাড়তে থাকে। 
 

Read more!
Advertisement
Advertisement