
দিল্লির জামিয়া নগর থানা এলাকায় এক ২৩ বছর বয়সী দলিত হিন্দু তরুণীকে অপহরণ, জোর করে ধর্মান্তরণ, বিয়ে এবং গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও মোট ছয়জন অভিযুক্তের মধ্যে মূল অভিযুক্ত বর্তমানে অন্য একটি মামলায় উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের দাসনা জেলে রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে কী জানা গিয়েছে?
সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করেই হয় পরিচয়। এক্ষেত্রে ভুয়ো হিন্দু পরিচয় ব্যবহার করে অভিযুক্তরা ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। পরে তাঁকে অপহরণ করা হয়। তারপর জোর করে বিয়ে এবং ধর্মান্তরে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এমনকী নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনা সামনে আসে ১৪ মে। ওই দিনভুক্তভোগী মহিলা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাকে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এমনকী তাঁকে বিয়ে করার পর জোর করে ধর্মান্তর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী তরুণী কোনওভাবে অভিযুক্তদের কবল থেকে বেরিয়ে এসে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে জামিয়া নগর থানায় মামলা রুজু করা হয়।
পুলিশের তরফে খবর, এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফহিম। এই ব্যক্তি ‘সাহিল’ পরিচয়ে তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এই মামলায় আরও অভিযুক্তরা হল ফাহিমের মা তসলিমা, বাবা খুরশিদ, মৌলবি মোহাম্মদ খালিদ এবং ভাই জায়েদ। তাদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। আর ফহিম আগে থেকেই জেলে রয়েছে। সব মিলিয়ে এই মামলায় চারজন গ্রেফতার এবং দু’জন আগে থেকেই কারাগারে রয়েছে।
কোন কোন ধারায় অভিযোগ?
এই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতেই একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। তারা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৬ (অপহরণ ও জোরপূর্বক বিয়ে), ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৫০৬ (ফৌজদারি হুমকি), ৩৪২ (বেআইনি আটক) এবং ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারায় মামলা দায়ের করেছে। তারপর শুরু হয়েছে তদন্ত।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে,মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তবে তল্লাশির সময় এখনও কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মূল অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে দিল্লিতে আনা হবে। তারপর ঘটনার পুনর্গঠন করতে তাকে ঘটনাস্থলেও নিয়ে যাওয়া হবে। বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।