
বাইরে থেকে দেখে মনে হচ্ছিল স্বাভাবিক একটি ফ্ল্যাট। অথচ ভিতরে প্রবেশ করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় পুলিশের। রমরমিয়ে চলছিল নগ্ন দৃশ্যের শুটিং!ভদোদরার এই ঘটনা শোরগোল ফেলে দিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে মণীশ পাধিয়ার নামে এক যুবককে। দশম পাশ এই যুবক একটি অ্যাপ বানিয়ে নগ্ন দৃশ্য বেচে এবং যুবতীদের ভিডিও কলে অশালীন কার্যকলাপে লিপ্ত করিয়ে পয়সা রোজগার করছিল বলে অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, এই নগ্ন দৃশ্য শুট করার পর তা অনলাইনে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কারবার চলত ভদোদরার ওই ফ্ল্যাট থেকে। গ্রাহকরা রিচার্জ করে সেই ভিডিও দেখতেন। ভিডিও করে ওই দৃশ্যে থাকা তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করারও সুযোগ পেতেন গ্রাহকরা। কল যত দীর্ঘ হতো, তত বেশি কয়েন খরচ হতো অনলাইনে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মণীশ প্রায় ১১ লক্ষ টাকায় এই ফ্ল্যাটটি কিনেছিল, যেখান থেকে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছিল। ঘটনাটি ভদোদরার মঞ্জলপুর এলাকার প্রকৃতি আবাসনের। গত ১১ অগাস্ট মঞ্জলপুর পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই আবাসনের ফ্ল্যাটটিতে হানা দেয়। জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটে বেশ কয়েকজন যুবতীকে রাখা হয়েছে। তাদের আপত্তিকর অনলাইন কার্যকলাপে নামানো হয়েছে।
তদন্তে একটি অনলাইন ভিডিও কলিং নেটওয়ার্কের সন্ধান পায় পুলিশ। অভিযোগ, ওই যুবতীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে খদ্দেরদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী অশালীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতো। এই ঘটনায় পুলিশ ধৃত মণীশকেই মূল পাণ্ডা হিসেবে দাবি করেছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই পুরো নেটওয়ার্কটি স্ট্রিপচ্যাট নাম একটি প্ল্যাটফর্মে চলত। গ্রাহকরা প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট জমা দিত এবং বিনিময়ে কয়েন পেত। এরপর ভিডিও কল শুরু হতো। পুরো ব্যবস্থাটিতে প্রথমে রিচার্জ তারপর কয়েন এবং সবশেষে ভিডিও কল অন্তর্ভূক্ত ছিল।
এই নেটওয়ার্কে কী পরিমাণ টাকা এসেছিল এবং কোন কোন অ্যাকাউন্টে তা স্থানান্তর করা হয়েছিল, পুলিশ তা তদন্ত করে দেখছে। পুলিশের মতে, এই চক্রের আয় ৫০-৫০ শতাংশ করে ভাগ করা হতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো। এরপর অভিযুক্ত তার অংশ রেখে দিত এবং বাকি টাকা যুবতীদের মধ্যে ভাগ করে দিত।
পুলিশ জানাচ্ছে, মণীশ আগে একটি কল সেন্টার চালাত। সেই সময়ে তার সংস্পর্শে আসা এক তরুণীও এই কাজে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নেটওয়ার্কে কত জন যুবতী ও অন্যান্য ব্যক্তি জড়িত ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এসিপি বিমল গামিত জানিয়েছেন, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্ল্যাকমেল করা হয়েছিল কি না, কেউ প্রতারিত হয়েছিল কি না, কত টাকার লেনদেন হয়েছিল, তা তদন্ত করা দেখা হচ্ছে।