
বিরাট বড় বদলের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত। আজ পার্লামেন্টে বিশেষ অধিবেশন শুরু। আর সেখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এই বিলগুলি মূলত মহিলা সংরক্ষণ আইন এবং নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়মকে লাগু করার জন্যই পেশ করা হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
মোদী সরকার এমন তিনটে বিলের কথা জানিয়েছে, যেগুলি লোকসভাতে আজ পেশ করা হবে। এই বিলগুলির মূল উদ্দেশ্য হল মহিলা সংরক্ষণ আইনকে ২০২৯ সালের মধ্যে লাগু করে ফেলা। পাশাপাশি লোকসভা সিটের সংখ্যা ৮৫০-তে পৌঁছে দেওয়াও এই অধিবেশনের উদ্দেশ্য।
আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল প্রথম দু'টি বিল পেশ করবেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তৃতীয় বিলটা পেশ করবেন। সেই মতো ১৮ ঘণ্টার আলোচনার সময় ধার্য হয়েছে। এই বিলগুলি পাশের জন্য সময় বেড়ে শুক্রবার পর্যন্ত করা হতে পারে। এই বিলগুলি লোকসভায় পাশ করার পর সেটা রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য যাবে। আর এই সব বিলগুলির মধ্যে ডিলিমিটেশন বা নতুন আসন বিন্যাস সংক্রান্ত বিলটা নিয়েই লোকসভা উত্তাল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোন কোন বিল আসতে চলেছে?
১. কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আইন (সংশোধন) বিল ২০২৬
এই বিলের মাধ্যমে দিল্লি, জম্মু-কাশ্মীর এবং পুদুচেরির মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সিটে মহিলা সংরক্ষণ করা হবে।
২. ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল
১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে চাইছে সরকার।
৩. ডিলিমিটেশন বিল
এই বিলের মাধ্যমে লোকসভা এবং বিধানসভার সিট বাড়াতে চাইছে সরকার।
কেন সরকার চাইছে এই বিলগুলি পাশ করাতে?
সরকার মূলত ৩৩ শতাংশ আসনে মহিলা সংরক্ষণ চাইছে। তাদের লক্ষ হল ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগেই এই রাস্তা পরিষ্কার করা। আর নারী শক্তি বন্ধ বন্দন আইন অনুযায়ী চলতে চাইছে সরকার।
এছাড়া সরকারের বিশেষ দাবি হল, লোকসভার সিট সংখ্যা বাড়ানো। এটা ৮৫০-তে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব আনছে সরকার। মূলত বেড়ে চলা জনসংখ্যাকে মাথায় রেখেই এই প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। আবার তারা চাইছে লোকসভা এবং রাজ্যসভার আসনেও ৩৩ শতাংশ সিট মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করতে।
যদিও এই বিল নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধিতায় নেমেছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে শুরু করে প্রায় সব বিরোধী দল। তাঁদের দাবি, মহিলা ভোটকে সামনে রেখে আদতে নিজেদের চাল দিচ্ছে বিজেপি। তারা ডিলিমিটেশনের খেলা খেলছে। তাদের একটাই দাবি, ২০১১ সালের জনসংখ্যার তথ্য দেখে এই ডিলিমিটেশন করা ঠিক হবে না। করতে হলে ২০২১ সালের জনসংখ্যার তথ্য দেখে করতে হবে। সেই মতো বিরোধিরা একাধিকবার মিটিংও করেছে। এমনকী আজও বৈঠক করবে বিজেপি।