
ফের একবার নৃশংস ঘটনার সাক্ষ্মী থাকল ভারত। এবার ৪ বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনা মহারাষ্ট্রের পুনের একটি গ্রামের। এই ঘটনা সামনে আসার পরই ব্যাপক ক্ষোভ, বিক্ষোভ ছড়িয়েছে।
যতদূর খবর, ধর্ষণ এবং খুনে অভিযুক্ত এই ব্যক্তির অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। তারা ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল এবং ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে বিচারের বার্তাও দিয়েছে। এমতাবস্থায় ধৃতকে ৭ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
কবে ঘটে এই ঘটনা?
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার ঘটে এই ঘটনা। অভিযুক্ত ভোরবেলায় শিশুটিকে খাবারের লোভ দেখায়। তাকে নিয়ে যায় একটি গবাদি পশুর খামারে।
পুনের পুলিশ সুপার সন্দীপ সিং গিল বলেন, 'অভিযুক্ত শিশুটিকে খাবারের লোভ দেখিয়ে গবাদি পশুর থাকার জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।'
জানা গিয়েছে, স্কুলের ছুটিতে মামাবাড়িতে বেড়াতে এসেছিল শিশুটি। শুক্রবার দুপুর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। তখনই পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করে।
তল্লাশির সময় কাছাকাছি একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিশুটিকে শেডের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই সূত্র ধরেই ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। এর পরপরই ওই শেডের ভিতর থেকে শিশুটির দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা (POCSO) আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসীদের বিক্ষোভ
এই ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে গ্রামবাসীরা। তারা দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর প্রাথমিক চেষ্টায় বাধা দেয় বলে জানা গিয়েছে। তারা অবিলম্বে বিচার চেয়েছে। এমনকী অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের অপরাধ রেকর্ড রয়েছে। সে দিনমজুর হিসেবে কাজ করে। আশপাশের গ্রামগুলিতেই কাজ করে সে। তার বিরুদ্ধে ১৯৯৮ ও ২০১৫ সালে দুটি মামলা দায়ের হয়েছিল। কিন্তু এই সব মামলায় সে বেকসুর খালাস পায়।
রাজনৈতিক নেতাদের কী প্রতিক্রিয়া?
এই ঘটনা সামনে আসার পরই রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তারাও এই ঘটনার নিন্দার করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস জানান, তিনি ঘটনার পর দু’বার শিশুর বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, 'আমি তাঁকে বুঝিয়েছি, আমাদের লক্ষ্য হল অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া।'
প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ বলেন, 'এ ধরনের অপরাধীরা কীভাবে সমাজে ঘুরে বেড়ায়? আমি যখন মহা বিকাশ আঘাড়ি সরকারের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলাম, তখন আমরা শকতি আইন অনুমোদন করেছিলাম। সেই আইন এখনও কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।'
এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার জন্য আবেদন জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চলছে তদন্ত।