Advertisement

বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় হতে চায় পাকিস্তান, সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা

প্রসঙ্গত, বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্ব নৌ-কমান্ড এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ভারতের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের নতুন পরিকল্পনা ভারতের জন্য কতটা চিন্তার কারণ হবে তা সময়ই বলবে। 

বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন সক্রিয়তা চাইছে পাকিস্তান বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন সক্রিয়তা চাইছে পাকিস্তান
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 18 Jun 2026,
  • अपडेटेड 12:11 PM IST
  • ১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সাবমেরিন পিএনএস হ্যাঙ্গর ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল
  • তবে তা যুদ্ধের ফলাফলে কোনও প্রভাব ফেলেনি

১৯৭১ সালে ভারতের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এখন ৫৫ বছর পর পাকিস্তান নতুন করে ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন বা তা দিয়ে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা করছে। 

এই Hangor-class সাবমেরিনটি তৈরি হয়েছে চিনে। সেই দেশ থেকে করাচিতে এসেছে গত সপ্তাহেই। আর তারপরই পাকিস্তান নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্তারা বঙ্গোপসাগরে সেই সাবমেরিনের উপস্থিতি বজায় রাখার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছেন।

পাক নৌবাহিনীর এক সিনিয়র কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নতুন সাবমেরিন পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বজায় রাখার ক্ষমতা দেবে। ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর থেকে এই অঞ্চলে পাকিস্তানের নৌ-উপস্থিতি কার্যত ছিল না বললেই চলে। কূটনৈতিক মহলের দাবি, এতে বঙ্গোপসাগরে সক্রিয়তা বাড়বে শেহবাজ মুনিরের। 

১৯৭১ সালে যুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সাবমেরিন পিএনএস হ্যাঙ্গর ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল। তবে তা যুদ্ধের ফলাফলে কোনও প্রভাব ফেলেনি। স্থল-জল ও আকাশ,সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় বাহিনীর হাতে পর্যুদস্ত হয়েছিল পাকিস্তান। এখন পাকিস্তান তার নতুন সাবমেরিন প্রকল্পের জন্য একই নাম 'হ্যাঙ্গর' বেছে নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি পাকিস্তানের নৌ-আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার একটি অংশ। পাকিস্তান মোট আটটি হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাবমেরিনগুলিতে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (এআইপি) প্রযুক্তি রয়েছে। ফলে সাবমেরিনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে জলের নিচে থাকতে পারবে। ঘন ঘন উপরে আসার প্রয়োজন হয় না।

প্রসঙ্গত, বিশাখাপত্তনমে ভারতের পূর্ব নৌ-কমান্ড এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ভারতের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করে দেয়। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের নতুন পরিকল্পনা ভারতের জন্য কতটা চিন্তার কারণ হবে তা সময়ই বলবে। 

চিনে নির্মিত হ্যাঙ্গর-শ্রেণির এই সাবমেরিনে Air-Independent Propulsion (AIP) প্রযুক্তি রয়েছে বলে খবর। ফলে সাবমেরিনটিকে ঘন ঘন জলের উপর উঠে ব্যাটারি চার্জ করতে হয় না। দীর্ঘ সময় জলের নিচে গোপনে অভিযান চালাতে পারে। 

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন বঙ্গোপসাগরে ভারতের সামরিক প্রাধান্যকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলে দিতে পারবে না। কারণ, গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী ব্যাপকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ভারতের হাতে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং অত্যাধুনিক সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থা। তবুও পাকিস্তানের সম্ভাব্য উপস্থিতি ভারতকে কৌশলগতভাবে সতর্ক থাকতে বাধ্য করবে।

Read more!
Advertisement
Advertisement