
অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বড় খবর। রেল কর্মীদের মিনিমাম বেসিক বেতন ৫২,৬০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন কাঠামো নিয়ে দেশজুড়ে জোর আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে একাধিক দাবি পেশ করল ভারতীয় রেলের প্রযুক্তি কর্মীদের (Rail Technical Staff) সংগঠন। শুধু বেসিক বেতন নয়, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, ডিএ, প্রোমোশন এবং অবসরকালীন বেনেফিট; সব ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তনের দাবি তুলেছে সংগঠন।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে আপাতত পর্যালোচনা করছে পে কমিশন। অষ্টম বেতন কমিশনের প্রস্তুতি পর্ব তুঙ্গে। বিভিন্ন সরকারি কর্মী সংগঠন ইতিমধ্যেই নিজেদের দাবিদাওয়া কমিশনের কাছে পেশ করেছে। সেই আবহেই Indian Railway Technical Supervisors Association বা IRTSA রেল কর্মীদের জন্য একটি বিস্তারিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
সংগঠনের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থায় সব স্তরের কর্মীদের জন্য একই ধরনের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর লাগু করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ দায়িত্ব, অভিজ্ঞতা এবং কাজের ধরন এক এক স্তরে আলাদা। তাই পাঁচ ধরনের পৃথক ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চালুর দাবি জানানো হয়েছে।
IRTSA-র প্রস্তাব অনুযায়ী, লেভেল ১ থেকে ৫ পর্যন্ত কর্মীদের জন্য ২.৯২ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চাওয়া হয়েছে। লেভেল ৯ থেকে ১২ পর্যন্ত কর্মীদের জন্য ৩.৮০, লেভেল ১৩ থেকে ১৬ পর্যন্ত ৪.০৯ এবং লেভেল ১৭ থেকে ১৮ পর্যন্ত কর্মীদের জন্য ৪.৩৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, এর ফলে বেতন কাঠামোয় বাস্তবসম্মত ব্যালেন্স তৈরি হবে।
কর্মী সংগঠনগুলির সবচেয়ে বড় দাবি হল ন্যূনতম বেসিক বেতন বাড়িয়ে ৫২,৬০০ টাকা করা। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে বহু সংগঠনই বেসিক বেতন বৃদ্ধির দাবি তুলছে। রেলকর্মীদের সংগঠনও সেই সুরেই দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে কর্মীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে বেতন বাড়ানো জরুরি।
শুধু বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতা বা অ্যালাউন্স নিয়েও একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠন। বিশেষ করে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র হিসাব কষার ক্ষেত্রে নতুন কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, বর্তমান CPI-তে বহু আধুনিক খরচের হিসাব ধরা হয় না। তাই ইন্টারনেট খরচ, প্যাকেজড জল, স্বাস্থ্য বিমার মতো প্রয়োজনীয় ব্যয়ও এই সূচকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
IRTSA আরও দাবি করেছে, ডিএ-কে আয়করের আওতার বাইরে রাখা হোক। পাশাপাশি ৫০ শতাংশ ডিএ বেসিক বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কর্মীদের হাতে প্রকৃত অর্থে বেশি টাকা পৌঁছবে বলে মনে করছে সংগঠন।
প্রোমোশন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলেছে রেল কর্মীদের সংগঠন। তাদের বক্তব্য, প্রতি বছর ন্যূনতম ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া উচিত। পাশাপাশি পদোন্নতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দু’বছরের সমপরিমাণ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। এতে কর্মীদের কাজের উৎসাহ বাড়বে বলে দাবি সংগঠনের।
অবসরকালীন বেনেফিট নিয়েও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে মেমোর্যান্ডামে। যদিও সেই বিষয়ে বিস্তারিত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে রেলকর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই বেতন কাঠামো ও ভাতা সংক্রান্ত অসন্তোষ ছিল। অষ্টম বেতন কমিশনের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান হতে পারে বলেই আশাবাদী তাঁরা।
কেন্দ্রীয় সরকার এবং অষ্টম বেতন কমিশন এই দাবিগুলিকে কতটা গুরুত্ব দেয়, এখন সেটাই দেখার। কারণ, শুধু রেলকর্মী নয়, দেশের লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীই এখন কমিশনের সুপারিশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।