Advertisement

দু’বছর ভাল বর্ষার পর ধাক্কা! ২০২৬-এ খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত 

ভারতের বর্ষা নিয়ে এবার বড় সতর্কবার্তা। টানা দু’বছর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির পর ২০২৬ সালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছরের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিকের মাত্র ৯০ শতাংশ বৃষ্টি দিতে পারে। পূর্বাভাস সত্যি হলে, ২০১৫ সালের পর এটাই হবে দেশের সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষা।

Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 30 May 2026,
  • अपडेटेड 12:07 PM IST
  • ভারতের বর্ষা নিয়ে এবার বড় সতর্কবার্তা।
  • টানা দু’বছর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির পর ২০২৬ সালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

ভারতের বর্ষা নিয়ে এবার বড় সতর্কবার্তা। টানা দু’বছর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টির পর ২০২৬ সালে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদরা। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছরের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিকের মাত্র ৯০ শতাংশ বৃষ্টি দিতে পারে। পূর্বাভাস সত্যি হলে, ২০১৫ সালের পর এটাই হবে দেশের সবচেয়ে শুষ্ক বর্ষা।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, ঘাটতিপূর্ণ বর্ষার সম্ভাবনা এখন প্রায় ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। সাধারণত এমন পরিস্থিতির সম্ভাবনা থাকে প্রায় ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ঝুঁকির ইঙ্গিত মিলছে।

কেন এই আশঙ্কা?
এর মূল কারণ ‘এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে যে জলবায়ুগত পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাকে এল নিনো বলা হয়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে যায়। ভারতের ক্ষেত্রে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে মৌসুমি বৃষ্টির ওপর।

স্বাভাবিক অবস্থায় ভারত মহাসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ভারতীয় উপমহাদেশে এসে বৃষ্টি ঘটায়। কিন্তু এল নিনোর সময় সেই বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হয়ে যায়। ফলে আর্দ্রতা কম পৌঁছায় এবং বর্ষাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

এখনও সবচেয়ে খারাপ সময় আসেনি
আইএমডি জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এল নিনো পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শক্তিশালী হয়নি। বর্ষাকাল চলাকালীনই এটি আরও জোরালো হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সেপ্টেম্বর মাসে এল নিনোর প্রভাব চরমে পৌঁছায়, তাহলে ধান-সহ খরিফ ফসলের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরো, চিনের জাতীয় জলবায়ু কেন্দ্র এবং মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, সব পক্ষই প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে।

ভারত মহাসাগর থেকেও মিলছে না ভরসা
অনেক সময় ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ (IOD) এল নিনোর ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমিয়ে দেয়। কিন্তু এ বছর ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি নিরপেক্ষ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ এল নিনোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কোনও প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

Advertisement

সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে কোন অঞ্চল?
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশ বাদ দিলে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হতে পারে।

বিশেষ করে গুজরাট থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত ‘মনসুন কোর জোন’ সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের কারণ। এই অঞ্চলেই দেশের বৃহত্তম বৃষ্টিনির্ভর কৃষিজমি রয়েছে। এখানে বর্ষার ঘাটতি হলে ধান, ডাল, তৈলবীজ এবং অন্যান্য খরিফ ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে।

ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষক এখনও সরাসরি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বর্ষার ঘাটতি কৃষিক্ষেত্রের পাশাপাশি খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।

আশার কোনও আলো আছে?
তবে আবহাওয়াবিদরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এল নিনো মানেই খরা নয়। অতীতেও একাধিক এল নিনো বছরে ভারতে স্বাভাবিক বা তার চেয়েও বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কারণ বর্ষা শুধুমাত্র একটি উপাদানের ওপর নির্ভর করে না; একাধিক বায়ুমণ্ডলীয় ও সমুদ্রীয় উপাদান একসঙ্গে কাজ করে।

তবু বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এল নিনোর প্রভাব বাড়ছে, ভারত মহাসাগর থেকে বিশেষ সহায়তার সম্ভাবনা নেই, আর ঘাটতিপূর্ণ বর্ষার সম্ভাবনা ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে ২০২৬ সালের বর্ষা নিয়ে উদ্বেগ এখন আর কেবল অনুমানের পর্যায়ে নেই; এটি কৃষি, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement