
হিন্দু পড়ুয়াকে হোমওয়ার্কে মুসলিম ধর্মের 'কলমা' পড়ার নির্দেশ। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়াল হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলে। অভিযোগ, ওই স্কুলের এক শিক্ষিকা এক হিন্দু পড়ুয়াকে কলমা পড়ার হোমওয়ার্ক দেয়। যার জেরে ওই শিক্ষিকা এবং স্কুলের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।
যতদূর খবর, পড়ুয়ার পিসির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ওই ঘটনার জন্য শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কুমার, বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) স্কুলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। আর সেই মতো কাজ শুরু করেছে পুলিশও।
পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারা, যা ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় আবেগে আঘাত করার অভিযোগ সংক্রান্ত এবং জুভেনাইল জাস্টিস আইনের ৭৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন চারমিনার জোনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার খারে কিরণ প্রভাকর। তিনি জানান, ১৫ জুলাই এক শিক্ষিকা দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়াদের হোমওয়ার্ক হিসেবে কলমা পড়তে হবে বলে নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, ওই শ্রেণিতে মোট ২৫ জন পড়ুয়া রয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র একজন হিন্দু ছাত্র। তাঁর দাবি, এই নির্দেশ শিক্ষানীতি এবং স্কুলের নিজস্ব নীতির সম্পূর্ণ উলঙ্ঘন।
এরপরই ছয় বছরের ওই পড়ুয়ার পিসি স্কুলে যান। তিনি সেখানে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি শিশুটির স্কুল ডায়েরিতে ওই নির্দেশ দেখতে পান।
তাঁর পিসি দাবি করেন, স্কুলের অধ্যক্ষ তাঁকে জানান, এটি একটি ধর্মীয় বিষয়। সব পড়ুয়ার জন্যই তা বাধ্যতামূলক। হোমওয়ার্ক এবং স্কুলের এই অদ্ভুত নীতি নিয়ে সরব হন তিনি। পাশাপাশি বলেন, এই ধরনের ধর্মীয় বিষয় হোমওয়ার্ক শুধুমাত্র সেই সব পড়ুয়াদেরই দেওয়া উচিত, যারা স্বেচ্ছায় তা বেছে নেয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বন্দি সঞ্জয় কুমার স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'এই ঘটনায় তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠনগুলি চুপ করে রয়েছে কেন?'
তিনি আরও বলেন, '২০২৮ সালের তেলঙ্গানা বিধানসভা নির্বাচনের পর যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে সব হিন্দু পড়ুয়ার তিলক পরা বাধ্যতামূলক করা হবে।'
অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতা রবিনুথলা শশিধর-ও স্কুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। তাঁর মতে, স্কুলটির সরকারি স্বীকৃতি বাতিল করা উচিত।
পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষিকা সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই বিতর্কের জেরে স্কুল কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে।