
একেই বোধহয় বলে খ্যাতির বিড়ম্বনা। NEET-UG পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজোড়া ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও এখন জোর চর্চা। আসছে বিয়ের একের পর এক প্রস্তাব। তা সত্ত্বেও আপাতত সংসার পাতার কোনও পরিকল্পনা নেই তাঁর। পরিবারের দাবি, আর্থিকভাবে স্বনির্ভর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করতে চান না ৩০ বছর বয়সী এই তরুণ।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ দিপকের মা অনিতা দিপকে জানান, গত দু'বছর ধরেই তাঁদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব আসছে। তবে ছেলে বারবার একটাই কথা বলেছে, নিজের উপার্জন না হওয়া পর্যন্ত সে বিয়ে করবে না।
তিনি বলেন, 'ও বলেছে, আগে পড়াশোনা শেষ করে কিছু উপার্জন করি। তা না হলে বিয়ে করব কীভাবে? আমি বলেছিলাম, আমাদের প্রয়োজনীয় টাকা আছে। কিন্তু ও বলেছে, নিজের উপার্জনের টাকাতেই সব করতে চায়। এমনকী বিয়েতেও পোশাক ছাড়া আর কিছু নেবে না অভিজিৎ।'
আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন অভিজিৎ
২০২৬ সালের ৬ জুন বোস্টন থেকে দিল্লিতে ফেরেন অভিজিৎ দিপকে। তখন তিনি মূলত একজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই NEET-UG পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে শুরু হওয়া দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
এই আন্দোলনের অন্যতম বড় ফল ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলন শেষ হলেও অভিজিৎকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্রহ এখন তুঙ্গে।
মায়ের ইচ্ছা, তবে সিদ্ধান্ত ছেলের
অনিতা দিপকে জানান, প্রত্যেক বাবা-মায়ের মতো তিনিও চান ছেলে সংসারী হোক। মায়ের কথায়, 'সব বাবা-মাই চান তাঁদের সন্তানের বিয়ে হোক। আমিও তাই চাই।'
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অভিজিৎ দিপকের। সম্প্রতি বিয়ে নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।
অসুস্থ অভিজিৎ, আপাতত বিশ্রামই অগ্রাধিকার
মায়ের কথায়, 'আন্দোলনের পর থেকে অভিজিৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ।' তাই তিনি ছেলেকে আগে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'ভিডিও কলে কথা হয়। বেশিরভাগ সময় ওর শরীরের খোঁজখবরই নিই। আধঘণ্টা কথা বলেই ও বিশ্রাম নিতে চলে যায়।'
পাত্রীর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অনিতা দিপকে জানান, তিনি এখনও ছেলের জন্য মেয়ে দেখা শুরু করেননি। কারও সঙ্গে কথাও কথা হয়নি তাঁক। এমনকী ছেলে বাড়ি ফিরে এলেও অন্তত এক মাস বিয়ের প্রসঙ্গ তুলবেন না। মা বলছেন, 'আগে ও সুস্থ হয়ে উঠুক। তারপর অন্য কথা।'
তিনি আরও জানান, পরিবারের অন্য ভাইবোনদের প্রায় সকলেরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাই একজন মা হিসেবে তাঁরও ইচ্ছা, ভবিষ্যতে ছেলে নিজের সংসার গড়ুক। তবে সেই সিদ্ধান্তের জন্য কোনও চাপ সৃষ্টি করতে চান না তিনি।