
একটা সময়ে তিনি নিজেই ছিলেন আম আদমি পার্টির (AAP) কর্মী। বর্তমানে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। যা তাঁর প্রাক্তন দলনেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিজিৎকেই চাইছেন অধিকাংশ মানুষ। ইন্ডিয়া-টুডে সি ভোটার মুড অফ দ্য নেশনের সার্ভেতে উঠেছে এসেছে এমনই চমকপ্রদ তথ্য।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের তুলনায় দেশের বেশি সংখ্যক মানুষ অভিজিৎ দিপকেকে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে দেখতে চাইছেন। সার্ভেতে উঠে এসেছে এমনটাই। যেখানে অভিজিৎ দিপকের সমর্থনে রয়েছেন ১.৩ শতাংশ মানুষ, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পক্ষে রয়েছেন ১.২ শতাংশ।
মাত্র ০.১ শতাংশ তফাৎ হলেও এত দ্রুত অভিজিৎ দিপকের উঠে আসে এবং রাজনৈতিক পরিসরে ছাপ ফেলা নিঃসন্দেহে সকলের নজর কেড়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বেই AAP-এর কমিউনিকেশন টিমে কাজ করতেন অভিজিৎ দিপকে। যিনি বর্তমানে যুব সম্প্রদায়ের কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ তাঁকেই ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী রূপে দেখতে চাইছেন।
ইন্ডিয়া টুডে-র মুড অফ দ্য নেশনের এবারের সার্ভেতে অংশ নিয়েছিলেন ২৫ হাজার ১৮৪ জন। ১ জুলাই থেকে ২৫ অগাস্টের মধ্যে এই সার্ভে করা হয়। সি ভোটার তাদের নিয়মিত ট্র্যাকিংয়ে গত ৬ মাস ধরে ৯১ হাজার ৭৯৫ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সেগুলিও ছাব্বিশের এই মুড অফ দ্য নেশন সমীক্ষায় কাজে লাগানো হয়েছে।
১.৩ শতাংশ সমর্থন তুলনামূলক ভাবে বাকি রাজনীতিবিদদের থেকে কম হলেও এই তালিকায় তাঁর চলে আসাই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। সর্বোপরি তাঁরই একদা গুরু কেজরিওয়ালকে প্রথমবারের সমীক্ষাতেই হারিয়ে দিয়েছেন দিপকে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই তালিকায় সবচেয়ে জনপ্রিয় হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছেন। তাঁর পক্ষে রয়েছে ৪৮.৭ শতংশ সমর্থন। এছাড়াও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছেন ২৭.১ শতাংশ মানুষ। তারপর রয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। রাজনীতিতে যোগদান করার পর প্রথমবারই ৯.২ শতাংশ মানুষ তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন।
অন্যদিকে, পরাজয়ের পরও পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২ শতাংশ মানুষ ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইছেন। সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবকে চাইছেন ১.৭ শতাংশ মানুষ। অভিজিৎ দিপকেকে চাইছেন ১.৩ শতাংশ এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে চাইছেন ১.২ শতাংশ মানুষ।
রাহুল গান্ধীর পর বিজয়ই সবচেয়ে পছন্দের বিরোধী দলনেতা
২৯ শতাংশ মানুষ রাহুল গান্ধীর উপরই ভরসা রেখেছেন। ছাব্বিশের জানুয়ারি মাসের সার্ভেতে এই পরিসংখ্যান ছিল ২৮.৬ শতাংশ। তবে গত সমীক্ষায় যিনি ছিলেনই না, সেই বিজয়কে বিরোধী দলনেতা দেখতে চাইছেন ১২.২ শতাংশ মানুষ। তৃতীয় স্থানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মানুষের পছন্দ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি পেয়েছেন ৮.৫ শতাংশ সমর্থন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে বিরোধী দলনেতা চাইছেন ৭.৫ শতাংশ।
এদিকে, অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে AAP-এর সম্পর্ক BJP-র কাছে সমালোচনার বড় টপিক। তবে দিপকে কখনওই অস্বীকার করেননি তিনি ৩ বছর কেজরিওয়ালের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে সমালোচকদের দাবি, CJP আদলে AAP-এর প্রক্সি টিম।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সম্প্রতি অভিযোগ করেন, CJP আন্দোলন হাইজ্যাক করেছিল AAP। BP সাংসদ নিশিকান্ত দুবেও একইরকম দাবি করে দিপকের বিদেশে পড়াশোনার ফান্ডিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু মড অফ দ্য নেশন সার্ভে সেই সমালোচনাকে কার্যত ভুল প্রমাণ করল। প্রাক্তন AAP কর্মী বর্তমানে কেজরিওয়ালকেই জনপ্রিয়তায় ছাপিয়ে গিয়েছেন। দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনেকেই দিপকেকে চাইছেন।
দিপকের জন্য ০.১ শতাংশ সমর্থন কম হলেও এটা বোঝা যাচ্ছে, শুধুমাত্র NEET আন্দোলনই নয়, তাঁকে ভবিষ্যতে রাজনীতিতেও চাইছে।