
রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের সমাবেশে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না ককরোচ জনতা পার্টি। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার পরই সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়ে দেন অভিজিৎ দীপকে। শনিবার তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর যুব আন্দোলনের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানান CJP প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি ‘ভোট চুরি’ অভিযোগ নিয়ে INDIA জোটের আন্দোলনের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন অভিজিৎ। তবে সংগঠনের স্বাধীন পরিচয় বজায় রাখতে এই সমাবেশে সরাসরি যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
রবিবারের ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে CJP অংশ নেবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিজিৎ স্পষ্ট জানান, তাঁদের সংগঠন আন্দোলনকে সমর্থন করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশে যোগ দেবে না। তাঁর কথায়, 'প্রতিবাদকে আমরা সমর্থন করি এবং পাশে রয়েছি। তবে ককরোচ জনতা পার্টি একটি স্বাধীন সংগঠন এবং নিরপেক্ষ মঞ্চ। আমরা নিজেদের সেই পরিচয় বজায় রাখতে চাই।'
অভিজিৎ আরও জানান, রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, যাঁরা ভোট চুরির বিরুদ্ধে লড়াই করবেন, তাঁদের প্রত্যেককে সমর্থন করবে CJP। তাঁর কথায়, 'যে ভোট চুরির বিরুদ্ধে লড়াই করবেন, আমাদের সমর্থন পাবেন। আমরা সব সংগঠনকেই সমর্থন করব।'
ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহির দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে বিরোধী জোট। বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা দিল্লিতে পৌঁছেছেন। রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। সমাবেশের জন্য রামলীলা ময়দানে তৈরি করা হয়েছে বিশাল তেরঙা ছাউনি দেওয়া মূল মঞ্চ। 'চলো দিল্লি' নামে এই মিছিল দুপুর ১২টায় মিন্টো রোড-কনট প্লেসের সংযোগস্থল থেকে শুরু হয়েছে। এর অভিমুখ রামলীলা ময়দান। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবন থেকে খোলা বাসে করে ইন্ডিয়া জোটের নেতারাও সেখানে যাচ্ছেন।
CJP এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও ১ নভেম্বরের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে CJP-র নেতাদের সরাসরি এই আন্দোলনে রামলীলা ময়দানে দেখা যাবে না। যদিও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। তবে নিজেদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংগঠনের পরিচয় বজায় রাখতে রবিবারের সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেবে না CJP।
মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ
অভিজিৎ দীপকে জানান, NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে তাঁদের প্রথম যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, দিল্লি পুলিশ যখন CJP-র নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করেছিল, তখনও তাঁদের পাশে ছিলেন তৃণমূল নেত্রী। সেই সমর্থনের জন্যই মমতাকে ধন্যবাদ জানাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি।
অভিজিৎ বলেন, 'দিদিকে ধন্যবাদ জানাতেই আমি এখানে এসেছি। যন্তর মন্তরে আমাদের প্রথম আন্দোলনের সময় তিনি জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং যুব আন্দোলনের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। সৌরভ ও আশুতোষকে দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করার সময়ও দিদি আমাদের পাশে ছিলেন।'
CJP কর্মীদের বাংলায় আসার আমন্ত্রণ মমতার
রবিবার ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে যোগ দিতে দিল্লিতে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর CJP-র তরুণ কর্মীদের প্রশংসা করেন তৃণমূল নেত্রী। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তাঁদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, 'সমাবেশের জন্য ওরা পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। আমরাও ওদের সবরকম সমর্থন জানিয়েছি। ওদের জন্য আমি খুব গর্বিত। ওরাই এই আন্দোলনের অগ্রদূত এবং প্রতিষ্ঠাতা।' বাংলায় এসে তাঁদের কর্মসূচি আয়োজনের কথাও বলেন মমতা।
CJP-র কর্মীরা কলকাতায় কোনও কর্মসূচি করবেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মমতা জানান, সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁদের। তাঁর কথায়, 'সেটা ওদেরই ঠিক করতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ওদেরই।'