Advertisement

CJP-Congress বরফ গলল? রাহুলকে ধন্যবাদ জানালেন অভিজিৎ দীপকে

এত দিন পর্যন্ত রাহুল এবং কংগ্রেস প্রকাশ্যে সিজেপি প্রসঙ্গ থেকে বিরত থেকেছে। যন্তর মন্তরে গ্রেফতারির পর রাহুলের সাম্প্রতিক পোস্ট সেই দূরত্ব কিছুটা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে কিনা, এখন নজর সেদিকেই।

রাহুলকে ধন্যবাদ জানালেন দীপকে। রাহুলকে ধন্যবাদ জানালেন দীপকে।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 14 Oct 2026,
  • अपडेटेड 7:01 PM IST
  • প্রকাশ্যে সিজেপি প্রসঙ্গ থেকে বিরত থেকেছে কংগ্রেস।
  • রাহুলের এক্স পোস্টে জল্পনা।

সুরে সুর মিলছিল। তবে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছিল না। অবশেষে দূরত্ব কাটার ইঙ্গিত। ঘটনা হল, গত কয়েক মাসে একাধিক ইস্যুতে একই অবস্থানে ছিল কংগ্রেস এবং ককরোচ জনতা পার্টির। সে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হোক বা এসআইআর প্রক্রিয়া। দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি হলেও কখনও একই মঞ্চে দেখা যায়নি। রাহুল গান্ধী এবং অভিজিৎ দীপকেও দূরত্ব রাখছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তার রেশ ছিল। তবে বুধবার বদলের আভাস। 

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতাদের গ্রেফতারির পর প্রথমবার প্রকাশ্যে পাশে দাঁড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। তবে বিরোধী দলনেতা তাঁর পোস্টে সরাসরি সিজেপির নাম করেননি। এক্সে রাহুল লেখেন,'যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে তেরঙা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। এর জন্য তরুণদের জেলে পাঠানো কাপুরুষতার পরিচয়'।

রাহুলের প্রতিবাদ

রাহুলের এই মন্তব্যের পরেই ধন্যবাদ জানান দীপকে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে এমন সৌজন্য বিনিময় কার্যত বিরল ঘটনা। পরে দীপকে জানান, ইন্ডি ব্লকের প্রতিবাদে তাঁদের সমর্থন রয়েছে। 

রাহুলকে ধন্যবাদ জানালেন দীপকে

বুধবার সিজেপি নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রানকাকে তিহাড় জেলে পাঠানো হয়। শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ।

কংগ্রেস ও সিজেপির মধ্যে দূরত্ব কেন?

রাহুলের এই পোস্টকে কংগ্রেসের অবস্থানের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ এখনও পর্যন্ত সিজেপির সঙ্গে একই মঞ্চে আসার বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক থেকেছে কংগ্রেস। জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে ককরোচদের বড় আন্দোলনের সময়ও দূরত্ব রেখেছিলেন রাহুল। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনির্দিষ্টকালের অনশন চলাকালীনও তিনি যন্তর মন্তরে যাননি। বরং কংগ্রেস নিজেদের মতো করে পৃথক আন্দোলন করেছিল।

কংগ্রেসের সংশয়ের অন্যতম কারণ ছিল, সিজেপি আদতে আম আদমি পার্টির বি-টিম কিনা। পাশাপাশি তরুণ ভোটারদের সমর্থন রাহুলের কাছ থেকে CJP-র দিকে সরে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা ছিল। CJP-র একাধিক নেতা আগে আপের সঙ্গে কাজ করেছেন। দিল্লি ও পঞ্জাবে আপের উত্থানে কংগ্রেসের ভোট কমেছে। সে সময়ে কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি রাহুল অনেক আগে থেকেই তাঁর ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ প্রচারের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত CJP-র টানা এক মাসের আন্দোলনই নজর কাড়ে। শেষপর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে দীপকে ও তাঁর সহযোগীরা বিজেপির অজেয় ভাবমূর্তিতেও ধাক্কা দেন।

Advertisement

CJP-র 'স্কুল ঠিক করো' প্রচারেও সমর্থন জানায়নি কংগ্রেস। দুই পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন আরও বাড়ে অগস্টে অসমে সিজেপির প্রচারের সময়। তখন কংগ্রেসের মুখপাত্র রীতম সিং অভিযোগ করেন, ওই কর্মসূচি আসলে আপের উদ্যোগ। তাঁর দাবি ছিল, CJP অন্যের ইস্যু নিজেদের বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং সেই ইস্যু নিজেদের দখলে নিচ্ছে।

ইস্যু ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

কংগ্রেস ও CJP-র মধ্যে শীতল সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে মূলত ইস্যু ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। কারণ দুই পক্ষই একাধিক ক্ষেত্রে একই ধরনের সমস্যা ও অভিযোগ তুলে ধরেছে। ফলে কোন দল সেই আন্দোলনের রাজনৈতিক কৃতিত্ব পাবে, তা নিয়েও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। তবে জুলাইয়ে CJP-র আন্দোলন কংগ্রেসকেও তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে উৎসাহিত করে। জেন জি-র সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সংযোগস্থাপনের চেষ্টা শুরু করেন রাহুল। ছাত্রছাত্রী এবং তরুণীদের সঙ্গে তাঁর ঘন ঘন কথায় সেই প্রবণতা স্পষ্ট ।
 

Read more!
Advertisement
Advertisement