
৪ মে বাংলায় তৃণমূল সরকারের পতনের পর মঙ্গলবার প্রথমবার লোকসভায় বক্তব্য রাখলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। এদিন প্রশ্নফাঁস রুখতে মোদী সরকারের আনা বিলের সমর্থন করেও,বিজেপিকে নিশানা করতে ছাড়লেন না ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। গেরুয়া শিবিরের দিকে কড়া কড়া কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন TMC সাংসদ।
এদিন নিজের বক্তব্যের শুরুতেই অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায় বলেন, "এই বিলকে সমর্থন করছি। কিন্তু বিলকে সমর্থন করছি মানেই এই নয় যে, বিজেপির সব কাজের প্রশংসা করব। সরকার পৃথিবীতে আগুন লাগিয়ে এখন এক বালতি জল নিয়ে হাজির হয়েছে, তাই তাদের জন্য হাততালি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।"
তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা এদিন দাবি করেন, "মোদী জমানায় প্রশ্নফাঁস আর ব্যতিক্রম নয়। এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং স্বাভাবিক নিয়ম হয়ে দাঁড়াচ্ছে।" এই নতুন বিলের বিষয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ প্রশ্ন তুলে বলেন, "সরকার এখন বিল আনছে। তাতে হয়তো দোষীদের শাস্তি হতে পারে, কিন্তু প্রশ্নফাঁসে পড়ুয়ারা যে মানসিক ধাক্কা খেয়েছে সেটা ঠিক হবে কী করে, যে স্বপ্নগুলো ভেঙে গিয়েছে, সেগুলো ঠিক করবেন কী করে?" পাশাপাশি তাঁর প্রশ্ন, “ছাত্রদের কথা না শুনে পেলেট গানের গুলি চালানো হল কেন? সরকার কেন প্রশ্নফাঁস রুখতে পারে না।”
এই বিল নিয়ে বিজেপির সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন করতে ছাড়েননি অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি জানান, কেবল সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে বা আইন কঠোর করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের প্রতিশ্রুতির কথা বললেও আদালত কক্ষে সিবিআই বা প্রসিকিউশনের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে বিচার ব্যবস্থার ফাঁকফোকরগুলি তুলে ধরেন তিনি। অভিষেক দাবি করেন, ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টে প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ছিল প্রসিকিউশন। ফলে ওইদিনের মতো স্থগিত হয়ে যায় মামলার কাজ।
তবে এদিন বক্তব্য রাখার শুরুতেই বিজেপি সাংসদের বাধার মুখে পড়েন তৃণমূল সাংসদ। নিজের বক্তব্যের শুরুতেই "সরকার পৃথিবীতে আগুন লাগিয়ে এখন এক বালতি জল নিয়ে হাজির হয়েছে, তাই তাদের জন্য হাততালি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।" বলায় তীব্র প্রতিবাদ করেন বিজেপি সাংসদরা। পাল্টা তাঁদের থামাতে চিৎকার করেন মহুয়া মৈত্রও। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকে থামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন স্পিকারের আসনে থাকা সাংসদ দিলীপ সাইকিয়া।