
রাজ্যসভার পর লোকসভাতেও পাস হয়ে গেল বন্দে মাতরম বিল। বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও উভয় কক্ষেই বিলটি পাস হয়। প্রসঙ্গত, বুধবার, ২৯ জুলাই রাজ্যসভায় বন্দে মাতরম বিলটি অনুমোদিত হয়। আজ, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই লোকসভাও বিলটি পাস করেছে। উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পর, বিলটি এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
বুধবার রাজ্যসভায় 'জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬' পাশ হয়। এদিন লোকসভাতেও বিল পাস হয়েছে। এই সংশোধনীর অধীনে, 'বন্দে মাতরম'-এর অবমাননা সংক্রান্ত বিধানগুলি আইনি সুরক্ষা পাবে। এই আইনের লক্ষ্য হলো 'বন্দে মাতরম'-কে জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন'-এর মতো একই আইনি সুরক্ষা প্রদান করা। এই আইন কার্যকর হওয়ার পর, যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে 'বন্দে মাতরম'-কে অপমান করলে বা গানটিতে বাধা দিলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের সম্মুখীন হতে পারেন।
বন্দে মাতরমকে অপমান করার শাস্তি কত বছরের?
বন্দে মাতরম বিল আইনে পরিণত হওয়ায়, জাতীয় গানটি এখন জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর মতোই আইনি সুরক্ষা পাবে। নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ায়, বন্দে মাতরমকে অপমান করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বন্দে মাতরম গাওয়ায় বাধা দেওয়া বা কাউকে তা গাইতে বাধা দেওয়াও একটি অপরাধ। বন্দে মাতরমকে অপমান করার শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। জাতীয় সঙ্গীতকে অপমান করার ক্ষেত্রেও একই শাস্তি প্রযোজ্য।
প্রসঙ্গত, এই বিলটির মাধ্যমে ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইনে সংশোধনী আনল কেন্দ্র। মূল আইনে দেশের জাতীয় পতাকা, সংবিধান, জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা বা অসম্মানকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় রাখা হয়েছে। এর জন্য তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। উল্লেখ্য, জাতীয় গানকে এত দিন এই আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এবার সেটাই করা হল। বলা বাহুল্য, এর ফলে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-র সমান আইনি মর্যাদা দেওয়া হল।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরম্-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল বন্দে মাতরমের কথা ও ভাবনা।