Advertisement

Ajit Doval: 'ভারতীয় গোয়েন্দাদের ধরে ফেলেছিল চিনা সেনা', রোমাঞ্চকর গল্প শোনালেন ডোভাল

IIT রুরকির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গিয়ে সিকিমের রোমাঞ্চকর কাহিনি শোনালেন অজিত ডোভাল। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সে সময়ে ছিলেন ইন্টালিজেন্স ব্যুরোতে। তাঁর টিম চিনা সেনার হাতে ধরে পড়ে যায়, তারপর কী হয়েছিল?

Aajtak Bangla
  • রুরকি, উত্তরাখণ্ড ,
  • 19 Sep 2026,
  • अपडेटेड 2:25 PM IST
  • সিকিমের রোমাঞ্চকর কাহিনি শোনালেন অজিত ডোভাল
  • সে সময়ে ছিলেন ইন্টালিজেন্স ব্যুরোতে
  • তাঁর টিম চিনা সেনার হাতে ধরে পড়ে যায়

IIT রুরকির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল তাঁর কর্মজীবনের একটি কঠিন পরিস্থিতির বর্ণনা করেন। সিকিমে পোস্টিংয়ের সময়ে তাঁর টিম চিনা সেনার হাতে ধরে পড়ে যায়। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, তাঁর কর্মজীবন হয়তো সেদিনই শেষ হয়ে যাবে। তদন্তে মানচিত্রের ত্রুটি থেকে তিনি মুক্তি পান। সেই সময়ে তাঁর এক সহকর্মী শেরপা তাঁকে জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঠ শিখিয়েছিলেন। 

অজিত ডোভাল তখন বিশের কোঠায় থাকা এক তরুণ IPS অফিসার। ইন্টালিজেন্সের কাছে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁকে সিকিমের গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। এমন একটি এলাকায় তাঁর পোস্টিং ছিল যেটি ভারতের অংশ ছিল না সে সময়ে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে সংযোজিত হচ্ছিল। অজিত ডোভাল ছিলেন সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি সীমান্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং চিনা সেনাবাহিনী PLA-র কার্যকলাপের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। 

একবার সীমান্ত এলাকায় পাঠানো হয় একটি গোয়েন্দা দলকে। ৮ দিনের মাথায় তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু ৫-১০ এমনকী ১৫ দিন কেটে গেল, তাদের কোনও হদিশ ছিল না। পেশাগত ও মানবিক, উভয় দিক থেকেই এটি অজিত ডোভালের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ ছিল। তিনি জানতেন না মানুষগুলি বেঁচতে আছে কি না। তুষারধসের কোনও খবর অবশ্য ছিল না। 

এরপর হেডকোয়ার্টার থেকে বস ফোন করে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি সীমান্তের ওপারে কিছপ লোক পাঠিয়েছেন কি না। অজিত ডোভাল জানান, তিনি জানেন না। দলটির দ্রুত ফেরার কথা থাকলেও ৮-১০ দিন কেটে গিয়েছিল। বস তাঁকে জানান, তারা চিনা হেফাজতে আছেন। চিন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং সম্ভবত আলোচনা বা কোনও চুক্তির পর মুক্তি দেয়। তারা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে ফিরেছিল।

IIT রুরকির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বলেন, 'আমি খুব দুঃখিত ছিলাম, এটা জীবনের সেই পর্যায়গুলির মধ্যে একটা, যখন মন খুব খারাপ হয়ে যায়। এ পর্যন্ত আমার কর্মজীবন বেশ ভালই চলছিল। ওই ঘটনার পর যখন তদন্ত শুরু হল অনুভব করছিলাম আমার কর্মজীবন শেষ হয়ে গিয়েছে।  নতুন করে জীবন শুরু করতে হবে।' অজিত ডোভালের কাছে নিজের এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত অপেশাদারী মনে হয়েছিল। 

Advertisement

শেষ পর্যন্ত তদন্তে তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়। সম্ভবত তিনি সবকিছু ঠিকঠাকই করেছিলেন, কারণ সদর দফতর থেকে পাওয়া তাঁর ম্যাপে ত্রুটি ছিল।

অজিত ডোভাল গভীর ভাবে দুঃখিত ছিলেন। জীবনের এই পর্যায়ে মানুষ গভীর ভাবে হতাশ হয়ে পড়ে। সহকর্মী শেরপা তাঁকে প্রশ্ন করেন, 'স্যর, আপনি এত দুঃখিত কেন?' অজিত ডোভাল জবাবে জানান, তিনি অনেক আশা নিয়ে এই পেশা বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু সবকিছুই ভুল হয়ে গিয়েছে। শেরপা তখন বলেন, 'স্যর, ব্যাপারটা তেমন নয়। পুরোটাই ম্যাপ রিডিংয়ের বিষয়। জীবনটা আসলে একটা প্রশ্ন, কেউ ম্যাপ সঠিক ভাবে পড়ে, কেউ ভুল ভাবে।' এই শেরপা বহু বছর বরফে ঢাকা পাহাড়ে বাস করেছেন। তিনি ৩টি জিনিস শিখিয়েছিলেন অজিত ডোভালকে। প্রথমত, কোথায় আছ তা আগে খুঁটিয়ে জেনে নাও। দ্বিতীয়ত, কোথায় যাচ্ছে, তা সম্পর্কে ভাল করে জানো। আর তৃতীয়ত, সেখানে পৌঁছনোর পথ দেখে বেছে নাও। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement