Advertisement

Defence News: AK-47 অতীত! এবার নিজেদের AK-203 Rifle বানিয়ে ফেলল ভারত, বিরাট সাফল্য

AK-203 Rifle India: রাশিয়ার প্রযুক্তি। কিন্তু বন্দুকের প্রতিটি পার্টই ভারতে তৈরি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় সাফল্য ভারতের। উত্তরপ্রদেশের আমেঠীর কোর্ভা অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে তৈরি হল নতুন AK-203 বন্দুক। 

রাশিয়ার প্রযুক্তি, এ বার পুরোপুরি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’!রাশিয়ার প্রযুক্তি, এ বার পুরোপুরি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’!
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 25 Aug 2026,
  • अपडेटेड 3:26 PM IST
  • বন্দুকের প্রতিটি পার্টই ভারতে তৈরি।
  • প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় সাফল্য ভারতের।
  • উত্তরপ্রদেশের আমেঠীর কোর্ভা অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে তৈরি হল নতুন AK-203 বন্দুক।

AK-203 Rifle India: রাশিয়ার প্রযুক্তি। কিন্তু বন্দুকের প্রতিটি পার্টই ভারতে তৈরি। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় সাফল্য ভারতের। উত্তরপ্রদেশের আমেঠীর কোর্ভা অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিতে তৈরি হল নতুন AK-203 বন্দুক। এই বিশেষ রাইফেলের ভারতীয় নাম ‘শের’। আমেঠীর কারখানাতেই এর সাকসেসফুল ফায়ারিং ট্রায়াল হয়েছে।

ভারতের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীর পুরনো INSAS রাইফেলের বদলে নতুন অ্যাসল্ট রাইফেল আনা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করে AK-203 তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রথম দিকে ভারতে তৈরি রাইফেলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিদেশ থেকে আনা হত। ধাপে ধাপে সেই নির্ভরতা কমিয়ে এ বার সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদনের দাবি করা হয়েছে।

 ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ AK-203
কোর্ভায় Indo-Russian Rifles Private Limited (IRRPL)-এর কারখানায় তৈরি হচ্ছে AK-203। ২০১৯ সালে ভারত ও রাশিয়ার চুক্তির পর এই যৌথ উদ্যোগ। ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে রাশিয়ার Kalashnikov Concern এবং Rosoboronexport-ও এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।

IRRPL-এর সিইও তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেজর জেনারেল এস কে শর্মা জানালেন, শুধু বিদেশি পার্টস এনে ভারতে জোড়া লাগানো নয়। রাইফেলের প্রতিটি পার্টসই ভারতে তৈরি হয়েছে।

একটি AK-203-এ প্রায় ৫০টি প্রধান পার্টস, প্রায় ১৮০টি সাব-পার্টস এবং প্রায় ১২০ স্টেপের ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস রয়েছে। পুরোটাই দেশে তৈরি করা হচ্ছে। 

আগে বিদেশি পার্টস ছিল
২০২৩-২৪ সালের মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি হস্তান্তর হয়ে যায়। কিন্তু সব যন্ত্রাংশ ভারতে তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সামরিক মান অনুযায়ী যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ভারতীয় সাপ্লাই চেন তৈরি করতেই মূলত সময়টা লেগেছে।

ব্যারেল, বোল্ট, বিভিন্ন বাহ্যিক অংশ, কোটিং এবং ফায়ার-কন্ট্রোল সংক্রান্ত এলিমেন্টস তৈরির জন্য ভারতীয় সংস্থাগুলিকে কাজে লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশেই পরীক্ষার পরিকাঠামো এবং গুণমান যাচাইয়ের ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

সংস্থার দাবি, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত AK-203-এ দেশীয় উপাদানের পরিমাণ প্রায় ৫০ শতাংশ ছিল। এখন তা বেড়ে ১০০ শতাংশ হয়েছে।

৬ লক্ষের বেশি রাইফেল তৈরির চুক্তি
AK-203 তৈরির প্রকল্পের পরিমাণও যথেষ্ট বড়। চুক্তি অনুযায়ী, IRRPL-কে মোট ৬,০১,৪২৭টি রাইফেল তৈরি করতে হবে। প্রকল্পটির আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় ৫,২০০ কোটি টাকা।

Advertisement

প্রথমে উৎপাদন শেষ করার সময়সীমা ছিল ২০৩২ সালের অক্টোবর। পরে তা এগিয়ে এনে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে হলে কোর্ভার কারখানায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০টি রাইফেল তৈরি করতে হবে।

INSAS-এর বদলে AK-203?
ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বহু বছর ধরে INSAS-এর বদলে নতুন অ্যাসল্ট রাইফেল আনার পরিকল্পনা চলছে। সেনাদের ব্যবহারের সময় INSAS নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার অভিযোগও সামনে এসেছিল। বিশেষ করে ঠান্ডা পরিবেশে কাজের সমস্যা এবং ম্যাগাজিন নিয়ে অভিযোগ ছিল।

সেই জায়গায় AK-203-কে নতুন প্রজন্মের রাইফেল হিসাবে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। AK-203 হল 7.62x39 mm কার্তুজ ব্যবহারকারী একটি গ্যাস-চালিত অ্যাসল্ট রাইফেল। এতে ভাঁজ করা যায় এমন স্টক এবং আধুনিক অপটিক্যাল সরঞ্জাম ব্যবহারের উপযোগী রেল ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে পুরোপুরি সেনাবাহিনীর হাতে যাওয়ার আগে আরও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি।

এবার পরীক্ষা করবে সেনা
‘শের’ নামে তৈরি সম্পূর্ণ দেশীয় AK-203-এর পরবর্তী পরীক্ষা করবে ভারতীয় সেনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে একাধিক ‘শের’ রাইফেল সেনার হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

সেনার ব্যবহারিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে অস্ত্রটির কার্যক্ষমতা যাচাই করা হবে। সেই পরীক্ষার ফলের উপরই পরবর্তী উৎপাদন এবং ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে AK-203 ‘শের’-কে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে। রুশ প্রযুক্তি থেকে শুরু হলেও এখন সম্পূর্ণ ভারতীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি ও পরীক্ষিত রাইফেল—এই পরিবর্তনই প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। 

Read more!
Advertisement
Advertisement