
UCC বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে যখন বড় ঘোষণা করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তারপরেই NDA জোটের অন্দরেই তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। শাহ দাবি করেছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে বিজেপি অথবা NDA শাসিত সব রাজ্যেই UCC লাগু হয়ে যাবে। এরপরেই NDA-র কয়েকটি শরিক নড়েচড়ে বসেছে।
UCC নিয়ে জেডিইউ-র আপত্তি রয়েছে
সূত্রের খবর, নীতীশ কুমারের দল JD(U) কার্যকরী রাষ্ট্রীয় অধ্যক্ষ সঞ্জয় ঝা অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছেন। UCC নিয়ে জেডিইউ-র আপত্তি রয়েছে। তা দলের পক্ষ থেকে জানানো হবে শাহকে। একইসঙ্গে NDA-র ভবিষ্যত্ রণনীতি নিয়েও আলোচনা চেয়েছেন তিনি। UCC নিয়ে জেডিইউ-র মহাসচিব শ্যাম রজকের বক্তব্যেও স্পষ্ট, UCC নিয়ে এনডিএ-র অন্দরেই বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন অমিত শাহ। শ্যাম রজকের স্পষ্ট বক্তব্য, বিহারে কোনও ভাবেই UCC লাগু করতে দেওয়া হবে না।
UCC নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার আবেদন নীতীশ কুমারের
এরপরেই অমিত শাহের সঙ্গে তাড়াতাড়ি আলোচনার জন্য সময় চেয়েছেন সঞ্জয় ঝা। সূত্রের খবর, UCC নিয়ে আলোচনায় আপত্তি নেই জেডিইউ-র। পার্টির মুখ্য আপত্তি হল, বিস্তারিত আলোচনা ও বিবেচনা না করে একতরফা ভাবে লাগু করা নিয়ে। তাদের দাবি, UCC-র মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। সব ধর্ম, সংখ্যালঘু, সব রাজ্যের সরকার সহ সব পক্ষের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা জরুরি। বস্তুত, এর আগে নীতীশ কুমারও UCC লাগু নিয়ে তাড়াহুড়ো যাতে না করা হয়, সেই বিষয়ে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন।
আলোচনা চান টিডিপি প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডুও
অন্যদিকে NDA-র আরেক শরিক চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টিও জানিয়ে দিয়েছে, ইউসিসি নিয়ে অনেক আলোচনার দরকার। তারপরেই লাগু করা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। যার নির্যাস,ইউসিসি নিয়ে NDA-র অন্দরেই শরিকদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বিজেপি-কে।
NDA-র শরিকদলের সবার মন রেখে এগনোই চ্যালেঞ্জ বিজেপি-র
বিজেপি সূত্রের দাবি, ইউসিসি নিয়ে শরিক দলগুলির আপত্তি নতুন নয়। তবে বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এগোতে চাইছে দল। বিজেপির লক্ষ্য, আলোচনার মাধ্যমে সব শরিকদলের মধ্যে একটি সমঝোতা তৈরি করা। সূত্রের খবর, এ ক্ষেত্রে শরিক দলগুলির সামনে উত্তরাখণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরতে পারে বিজেপি। দলের বক্তব্য, উত্তরাখণ্ডে দীর্ঘ আলোচনা ও মতবিনিময়ের পরেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি কার্যকর করা হয়েছে। ফলে একইভাবে জাতীয় স্তরেও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগেও একাধিক সংবেদনশীল ইস্যুতে সহযোগী দলগুলির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করেছে বিজেপি। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭০ ধারা বিলোপ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA), তিন তালাক নিষিদ্ধকরণ এবং ওয়াকফ সংশোধন আইন। তাই ইউসিসি নিয়েও সরাসরি চাপ তৈরি না করে আলোচনার পথেই এগোতে চাইছে বিজেপি।
তবে UCC ইস্যুতে এনডি-এর একতা ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপি-র কাছে। ইউসিসি লাগু ইস্যুতে ২০২৯ পর্যন্ত শরিকদলের সঙ্গে বিজেপি কীভাবে এগোয়, সেটাই এখন দেখার।