
Home Minister Amit Shah: বিরোধীদের সংশয় দূর করতে মোক্ষম চাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যগুলির জন্য সংসদীয় আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়াতে কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে এর জন্য সদনের কাজ মাত্র এক ঘণ্টার জন্য মুলতুবি রাখতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এই সময়ের মধ্যেই তিনি প্রয়োজনীয় সরকারি সংশোধনী সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেবেন।
সংসদে যখন মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছিলেন, ঠিক তখনই পাল্টা তোপ দাগেন শাহ। তিনি জানান, সরকারের লুকানোর কিছু নেই এবং তাঁরা এই প্রস্তাব লিখিতভাবে দিতেও পিছপা হবেন না। তাঁর কথায়, “আনুষ্ঠানিক সংশোধনী আমাদের হাতে তৈরিই আছে। কেবল ফটোকপি করে তা সদস্যদের মধ্যে বিলি করার সময়টুকু দরকার।” শাহের এই আগ্রাসী মনোভাবে কার্যত রক্ষণাত্মক মোডে চলে যায় বিরোধী শিবির।
এদিন অমিত শাহ সংসদ সদনে বিরোধী জানতে চান, বিরোধীদের আপত্তি কি ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে নাকি ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধি নিয়ে? তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আসন সংখ্যা বাড়ানোই মূল দাবি হয়, তবে তিনি এক ঘণ্টার মধ্যেই তা নিয়ে ফিরবেন। কিন্তু কোনোভাবেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাসে বাধা দেওয়া চলবে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর এই বিশেষ অধিবেশনে অমিত শাহের এই ‘এক ঘণ্টার চ্যালেঞ্জ’ আসলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির ক্ষোভ প্রশমিত করার বড় অস্ত্র। বিশেষ করে ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলি যাতে প্রতিনিধিত্ব না হারায়, তার গ্যারান্টি দিতেই এই ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধির মডেল। বর্তমানে ৫৪৩টি আসনের লোকসভা এর ফলে ৮১৬ বা ৮৫০-এর কোটায় পৌঁছাতে পারে।
বিরোধীদের প্রতি শাহের বার্তা ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার, হয় বিল পাসে সহযোগিতা করুন, নয়তো কেন বাধা দিচ্ছেন তা দেশবাসীকে স্পষ্ট করে বলুন। মহিলা শক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৯-এর নির্বাচনের আগেই এই আসন বিন্যাসের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে চাইছে সরকার। শাহর এই অনড় মনোভাব এবং ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে শুক্রবার সংসদের পারদ ছিল তুঙ্গে।
সব মিলিয়ে, বাজেট অধিবেশনের এই পর্বে অমিত শাহের এই নজিরবিহীন প্রস্তাব বিরোধীদের সামনে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা খাড়া করে দিয়েছে। রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা এক ধাক্কায় অর্ধেক বাড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্র আসলে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইছে। একদিকে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক সুসংহত করা এবং অন্যদিকে সীমানা পুনর্বিন্যাস নিয়ে ওঠা যাবতীয় বির্তকের মূলে কুঠারাঘাত করা।