
Demographic change: 'ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ কিয়া যা রহা হ্যায়'। গত কয়েক বছরে বঙ্গ সফরে এসে এ কথা বারবার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এবার সেই ডেমোগ্রাফি ইস্যুতেই উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা কেন্দ্রীয় সরকারের। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে এই বিষয়ে জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। লেখেন, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে যে 'অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন' ঘটেছে, তা দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক ভারসাম্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কারণেই কেন্দ্র উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি তৈরি করেছে। এই কমিটি দেশের জনসংখ্যার পরিবর্তনের ধরন খতিয়ে দেখবে। কোনও ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে কিনা, তার বিশ্লেষণ করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর আওতায় পশ্চিমবঙ্গ আসতে বাধ্য। কারণ বিধানসভা ভোটের আগে প্রচারে এসেও সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে ডেমোগ্রাফি বদলের অভিযোগ তুলেছিলেন অমিত শাহ। উত্তর ২৪ পরগনা, মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার প্রসঙ্গ টেনেছিলেন একাধিক সভায়। তুলেছিলেন 'বেআইনি অনুপ্রবেশে'র অভিযোগ।
ভোটের প্রচারে বাংলায় একাধিক সভা থেকে এই একই অভিযোগ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। অমিত শাহও বহু বার দাবি করেছিলেন, সীমান্ত দিয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশের ফলে বাংলার একাধিক জেলার সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। তৎকালীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে BSF কে জমি হস্তান্তরে বাধা দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন অমিত শাহ। সরকার বদলেছে। ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই বিএসএফকে জমি হস্তান্তর শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্য়েই অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার নির্মাণেরও নির্দেশ গিয়েছে। এহেন আবহে অমিত শাহের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
এ দিন অমিত শাহ জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২০২৫ সালের ১৫ অগাস্টের ঘোষণার ভিত্তিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকরের নেতৃত্বে কাজ করবে এই প্যানেল। সদস্য হিসাবে রয়েছেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক বালাজি শ্রীবাস্তব এবং অর্থনীতিবিদ ড. শমীকা রবি। জনগণনা কমিশনারও এই কমিটিতে থাকবেন।
কেন্দ্রের বক্তব্য, শুধু জাতীয় নিরাপত্তা নয়। আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামো এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষার সঙ্গেও এই বিষয়টি জড়িত।