
একটানা বৃষ্টি। তার সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। কোথাও নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়েছে। কোথাও আবার জল ঢুকে পড়েছে বাড়িতে। বহু জায়গায় রাস্তা পরিণত হয়েছে নদীতে। দুর্যোগে বিপর্যস্ত দেশের একাধিক রাজ্য। অর্ণবের প্রভাবে উত্তরপ্রদেশ থেকে ছত্তীসগঢ়, বিহার থেকে মধ্যপ্রদেশে বিপর্যস্ত জনজীবন।
উত্তরপ্রদেশে গত প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে প্রবল বৃষ্টি চলছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। বৃষ্টি এবং বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ৩২টি জেলায় তৈরি হয়েছে বন্যার আশঙ্কা। বহু এলাকায় জল জমে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
অর্ণবের প্রভাবে শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, দেশের আরও একাধিক রাজ্যে দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া ব্যবস্থা দক্ষিণ ছত্তীসগঢ় পেরিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি আরও কয়েকটি এলাকায় প্রভাব ফেলতে পারে। ছত্তীসগঢ়, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
ছত্তীসগঢ়ে নদীর ভয়াল রূপ
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি ছত্তীসগঢ়ের বস্তারে। কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ছোট-বড় প্রায় সমস্ত নদী ও নালা ফুলেফেঁপে উঠেছে। বহু রাস্তা জলের তলায়। ঘরবাড়িতেও ঢুকে পড়েছে জল।
জগদলপুরে ইন্দ্রাবতী নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপরে উঠে গিয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর। নদীর ধারের নিচু এলাকাগুলিতে জল বাড়তে থাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় অনেক পরিবার বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেননি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও। শিশু এবং বয়স্কদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
রায়পুরেও জলবন্দি জনজীবন
ছত্তীসগঢ়ের রাজধানী রায়পুরেও প্রবল বৃষ্টিতে পরিস্থিতি কঠিন হয়েছে। মহাদেবঘাটে খারুন নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। নদীর সেতুর উপর দিয়েও জল যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
গরিয়াবন্দেও একই ছবি। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রবল বৃষ্টির জেরে পয়রি, সৌন্দর এবং মহানদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করেছে। ছোট নদী ও নালাগুলিও ফুঁসছে। একাধিক নিচু এলাকা জলমগ্ন।
সুকমায় বাড়ছে শবরীর জল
সুকমার কন্টা এলাকাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। শবরী নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। সতর্কতামূলক স্তরের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে জল। এই ভাবে জল বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা।
নদীর ধারের গ্রামগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন।
উত্তরপ্রদেশে ফসলের ক্ষতি
বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ায় উত্তরপ্রদেশের কৃষকরাও সমস্যায় পড়েছেন। বহু জায়গায় মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ধান এবং আখের ফসল মাটিতে শুয়ে পড়েছে। কাটার ঠিক আগে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা। অযোধ্যা-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার জেরে তৈরি ফসলের ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে।
অর্ণব কী?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘অর্ণব ঘূর্ণিঝড়’ নামে প্রচার হলেও আসলে এটি ‘ডিপ্রেশন’ বা ‘ডিপ ডিপ্রেশন’ ক্যাটাগরির মধ্যেই পড়ছে বলে জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। নাম নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও এর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি যে তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।