
'এখনই ভোট হলে বিজেপি ১০টি সিটও পাবে না।' সিবিআইয়ের আবগারি মামলায় বেকসুর খালাসের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আক্রমণাত্মক মন্তব্য অরবিন্দ কেজরিয়ালের(Arvind Kejriwal)। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী(Narendra Modi) এবং বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, 'দিল্লিতে আবার নির্বাচন হোক। বিজেপি যদি ১০টির বেশি আসন পায়, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।'
শুক্রবার রাউজ অ্যাভিনিউ আদালত সিবিআইয়ের আবগারি মামলায় কেজরিওয়াল ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীষ শিশোদিয়া (Manish Sisodia) সহ মোট ২৩ জন অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস নিদান দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগকারী পক্ষ সেভাবে কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণই পেশ করতে পারেনি। বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক অভিসন্ধির যে দাবি তোলা হয়েছিল, তারও বিচারবিভাগীয় তদন্তে কোনও প্রমাণ মেলেনি। এদিন প্রায় ৬০০ পাতার আদেশে বিচারক বলেন, অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত তথ্যই পাওয়া যায়নি।
এদিন কেজরিওয়াল বলেন, 'এটি স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। দিল্লিতে আমাদের সরকারকে হটাতেই এই মামলা সাজানো হয়েছিল।' তাঁর অভিযোগ, 'ক্ষমতার লালসায় দিল্লির তিন কোটি মানুষকে ভুগতে হয়েছে।' তিনি আরও দাবি করেন, গত বছরের বিধানসভা ভোটে বিজেপি ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে রাজধানীর অবস্থা খারাপ হয়েছে। 'মোদীজি, সাহস থাকলে আবার ভোট করুন,' চ্যালেঞ্জ তাঁর।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ৭০টির মধ্যে ৪৮টি আসন জিতে ক্ষমতায় ফেরে বিজেপি। সেখানে আপ পায় ২২টি আসন। এর আগে ২০১৫ ও ২০২০ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল কেজরিওয়ালের দল। আবগারি বিতর্কই বিজেপির প্রচারে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর তাতেই AAP-এর ভাবমূর্তিতে প্রভাব পড়ে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।
কেজরিওয়াল এদিন বলেন, 'মামলায় যদি সামান্যতম ভিত্তিটুকুও থাকত, বিচারপ্রক্রিয়া ১৫-২০ বছর চলত। অসংখ্য সাক্ষী, প্রমাণ হাজির হত। আদালত বলেছে, প্রসিকিউশন শুরু করার মতো উপাদানও নেই।' তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। 'সংবিধান ও গণতন্ত্র নিয়ে এমন খেলা করা উচিত নয়,' মন্তব্য তাঁর।
দিল্লি আবগারি নীতি মামলা কী?
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও ইডির অভিযোগ ছিল, ২০২১-২২ সালের দিল্লির আবগারি নীতিতে বেসরকারি মদ ব্যবসায়ীদের সুবিধা পাইয়ে দিতেই খসড়া তৈরি হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, একটি লবি প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিল। আর সেই কারণেই খুচরো মুনাফার হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২ শতাংশ করা হয়। ২০২২ সালের জুলাইয়ে দিল্লির মুখ্যসচিবের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিবিআই তদন্তের সুপারিশ করেন তৎকালীন লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রেফতার হন সিসোদিয়া, ২০২৪ সালের মার্চে কেজরিওয়াল। পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান দু’জনেই।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আদালতের এই রায়ে দিল্লির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে বিজেপির তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।