Advertisement

Bangladesh China Corridor : বাংলাদেশের সঙ্গে চিনের নতুন অর্থনৈতিক করিডোর, বঙ্গোপসাগরে প্রভাব বাড়াতেই কি জিনপিংয়ের চাল?

কুনমিং থেকে মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশে যাবে চিন। চিনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখান থেকে মায়ানমারের পরিবহণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 15 Sep 2026,
  • अपडेटेड 6:16 PM IST
  • চিনের বঙ্গোপসাগরমুখী যোগাযোগ অবশ্য একেবারে নতুন নয়
  • মায়ানমারের সঙ্গে চিনের আগে থেকেই চিন-মায়ানমার ইকোনমিক করিডর বা CMEC-এর বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে

বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা ফের জোরদার হয়েছে। এই করিডরের নাম বাংলাদেশ-চিন-মায়ানমার ইকোনমিক করিডর বা BCMEC। প্রস্তাবিত এই যোগাযোগ ব্যবস্থা চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইউনান প্রদেশের কুনমিংকে মায়ানমারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার অংশ। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর এই বৃহত্তর যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হতে পারে।

সোমবার বাংলাদেশের জুনিয়র বিদেশমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে চিনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠক হয়। সেখানেই বাংলাদেশ-চিন-মায়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি মংলা বন্দর, চিনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, পরিকাঠামো, শক্তি, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়েও কথা হয়েছে।

কোথা থেকে কোথায় যাবে এই করিডর?

সহজ করে বললে, কুনমিং থেকে মায়ানমার হয়ে বাংলাদেশে যাবে চিন। চিনের ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিং এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখান থেকে মায়ানমারের পরিবহণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাংলাদেশে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর বাংলাদেশের বন্দরগুলির মাধ্যমে পণ্য বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপথে পরিবহণ করা যেতে পারে।

তবে মায়ানমারের ক্ষেত্রে ঠিক কোন রাস্তা, রেলপথ বা সীমান্ত দিয়ে পুরো করিডরটি যাবে, তার চূড়ান্ত রুট এখনও নির্ধারিত হয়নি। বিভিন্ন বিশ্লেষণে কুনমিং থেকে মায়ানমারের মান্দালয় হয়ে বাংলাদেশের দিকে সম্ভাব্য যোগাযোগের কথা বলা হয়েছে। তাই এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট রুটকে চূড়ান্ত বলে দাবি করা ঠিক হবে না।

 আগের BCIM করিডরের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?

এর আগে বাংলাদেশ-চিন-ভারত-মায়ানমার ইকোনমিক করিডর বা BCIM নামে চার দেশের একটি করিডরের পরিকল্পনা ছিল। সেই প্রস্তাবে ভারতও ছিল। সম্ভাব্য রুটে চিনের কুনমিং থেকে মায়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল হয়ে বাংলাদেশের দিকে যোগাযোগ তৈরির কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান আলোচনায় যে বাংলাদেশ-চিন-মায়ানমার করিডরের কথা উঠে আসছে, সেখানে ভারত নেই। অর্থাৎ চিন-মায়ানমার হয়ে সরাসরি বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির সম্ভাবনাই সামনে এসেছে। ফলে এটি আগের চার দেশের BCIM পরিকল্পনার তুলনায় আলাদা কাঠামো।

Advertisement

কেন এই করিডর চিনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

চিনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ইউনান প্রদেশ সমুদ্র থেকে অনেক দূরে। মায়ানমার ও বাংলাদেশ হয়ে বঙ্গোপসাগরের বন্দরগুলির সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হলে ওই অঞ্চলের জন্য ভারত মহাসাগরমুখী একটি অতিরিক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। চিনের জন্য এর কৌশলগত গুরুত্বও রয়েছে। বর্তমানে চিনের সমুদ্রপথের বাণিজ্যের একটি বড় অংশ দক্ষিণ চিন সাগর হয়ে মালাক্কা প্রণালী পেরিয়ে ভারত মহাসাগরের দিকে যায়। মায়ানমার হয়ে স্থলপথ এবং বাংলাদেশের বন্দরগুলিকে যুক্ত করা গেলে সমুদ্রপথের পাশাপাশি আরও একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরে বাড়তে পারে চিনের প্রভাব?

চিনের বঙ্গোপসাগরমুখী যোগাযোগ অবশ্য একেবারে নতুন নয়। মায়ানমারের সঙ্গে চিনের আগে থেকেই চিন-মায়ানমার ইকোনমিক করিডর বা CMEC-এর বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে। মায়ানমারের কিয়াউকফিউ বন্দর এবং সেখান থেকে চিনের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলছে।

তবে নতুন বাংলাদেশ-চিন-মায়ানমার করিডর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বন্দরগুলিও চিনের বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ফলে বঙ্গোপসাগরের দিকে চিনের আরও একটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সংযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ চিন যে প্রথমবার বঙ্গোপসাগরে পৌঁছচ্ছে, এমন নয়। বরং আগে থেকে থাকা যোগাযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের বন্দরকে যুক্ত করে বঙ্গোপসাগরমুখী চিনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই করিডরের ভৌগোলিক অবস্থানই ভারতের জন্য বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে। প্রস্তাবিত নেটওয়ার্কের একদিকে রয়েছে চিনের ইউনান, অন্যদিকে মায়ানমার ও বাংলাদেশ। এই দুই দেশই ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে করিডরটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায় চিনের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে চিনের বিনিয়োগ, বন্দর উন্নয়ন, শিল্পাঞ্চল এবং পরিবহণ পরিকাঠামো যদি একসঙ্গে বাড়ে, তাহলে ঢাকার সঙ্গে বেজিংয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের দৃষ্টিতে তাই বিষয়টি শুধু বাংলাদেশ-চিন বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বঙ্গোপসাগর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং ভারতের পূর্ব প্রতিবেশকে ঘিরে চিনের অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা বাড়ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের জন্য কি নিরাপত্তার উদ্বেগ?

এখানে অবশ্য সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এই করিডর এখনও প্রস্তাব ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। পুরো রুট, অর্থায়ন, নির্মাণ এবং মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে মায়ানমারের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই ধরনের স্থল যোগাযোগ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে এখনই এটিকে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও সরাসরি সামরিক বা নিরাপত্তা প্রকল্প হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পূর্ব সীমান্তের কাছাকাছি চিনের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উপস্থিতি বাড়তে পারে। সেই কারণে বঙ্গোপসাগরে চিনের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত গতিবিধির দিকে নয়াদিল্লির নজর আরও বাড়তে পারে।

মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব

প্রস্তাবিত নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশ চিনের সঙ্গে স্থল ও সমুদ্র- দুই ধরনের যোগাযোগের সুবিধা পেতে পারে। সোমবারের বৈঠকেও মংলা বন্দরের উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ ও চিন আলোচনা করেছে। পাশাপাশি চিনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, শক্তি, শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়ও উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের লাভ, চিনের লাভ, ভারতের নজর

বাংলাদেশের জন্য এই ধরনের করিডর বাস্তবায়িত হলে নতুন বাণিজ্যিক ও পরিকাঠামোগত সুযোগ তৈরি হতে পারে। চিনের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে বঙ্গোপসাগরের দিকে আরও একটি সম্ভাব্য যোগাযোগপথ তৈরি হবে।

আর ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি দ্বিমুখী। একদিকে বাংলাদেশের পরিকাঠামো ও বাণিজ্য বাড়লে আঞ্চলিক যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ও মায়ানমারে চিনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি বাড়লে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তের কাছে বেজিংয়ের প্রভাবও বাড়তে পারে।

তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল- এই প্রস্তাবিত করিডর আদৌ কতটা বাস্তবায়িত হয় এবং হলে তার রুট, বন্দর ও পরিকাঠামোর চরিত্র কী হয়। কারণ সেটাই ঠিক করবে, বঙ্গোপসাগরে চিনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি কতটা বাড়বে এবং ভারতের জন্য এর কৌশলগত গুরুত্ব কতটা হবে।

Advertisement
Read more!
Advertisement
Advertisement