
যাবতীয় জল্পনায় ইতি। দিল্লিতে BRICS সামিটে যোগ দিতে আসছেন না বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেখানে BIMSTEC-এর সভাপতিত্ব করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানিয়েছেন, বিশেষ প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকছেন।
BRICS সামিটে যোগ দিতে আসছেন না তারেক রহমান
ইন্ডিয়া টুডে-র BRICS গোলটেবিল বৈঠকে রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করা হয়, BIMSTEC-এর সভাপতিত্বের কারণেই কি তারেক রহমান BRICS সামিটে যোগ দিতে চাইছেন না? তিনি বলেন, বিষয়টিকে সেভাবে দেখা সঠিক হবে না। হামিদুল্লাহের কথায়,'সাড়ে ছয় মাস হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে এখন একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটের কারণে প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে যোগ দিতে পারেননি। এটাই এ বিষয়ে সবচেয়ে সহজ ও সরল উত্তর।'
কেন তারেক আসছেন না?
তবে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের যোগদানের পথে কী ধরনের পরিস্থিতি বাধা সৃষ্টি করেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি হামিদুল্লাহ। সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা কতটা কঠিন ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেন, 'এজন্যই তো কূটনীতিকদের অদ্ভুত প্রাণী বলা হয়।'
ইতিবাচক ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত
বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেন, বড় বড় আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সংগঠনগুলির অংশগ্রহণ একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য। এ ধরনের অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখা উচিত। তাঁর মতে, BRICS সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে BIMSTEC-এর মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো সেই ঐতিহ্যেরই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, শুধু BRICS নয়, অন্যান্য আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনেও আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সংগঠনগুলির অন্তর্ভুক্তি একটি স্বাগতযোগ্য উদ্যোগ। এ ধরনের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত।
হামিদুল্লাহ বলেন, 'BRICS যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারতের দিকে তার পরিধি বিস্তৃত করেছে, তখন সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই BIMSTEC-এর মতো আঞ্চলিক সংগঠনগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।' ‘গ্লোবাল সাউথ’ ধারণা প্রসঙ্গে হামিদুল্লাহের বক্তব্য, এর আওতায় বিভিন্ন স্বার্থ ও অগ্রাধিকারসম্পন্ন বিপুলসংখ্যক দেশ রয়েছে। ফলে একে অভিন্ন স্বার্থসম্পন্ন একটি একক গোষ্ঠী হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যেখানে অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, গ্লোবাল সাউথ একটি আকর্ষণীয় ধারণা, যা বহু বছর ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন হিসেব ও মানদণ্ডের ভিত্তিতে এতে ১৩০ থেকে ১৫০টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে এটি কোনও একক বা সমজাতীয় গোষ্ঠী নয়। এর মধ্যে বিভিন্ন স্তর ও স্বার্থের বৈচিত্র্য রয়েছে।