
ভারতীয় নেভির অ্যাকাডেমিতে কাজ করছিল এক বাংলাদেশি। অস্থায়ী কর্মী হিসেবেই কাজ করছিল এই ব্যক্তি। ইতিমধ্যেই তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আর এই ঘটনা সামনে আসার পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটা কী?
কেরলের পায়্যানুরের কাছে এঝিমালায় অবস্থিত ইন্ডিয়ান নেভাল অ্যাকাডেমিতে (আইএনএ) অস্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করছিল এক বাংলাদেশি। খবর পেয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মনোরমার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গ্রেফতারির ফলে গত চার দিনে কান্নুরে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ছয়।
বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন কান্নুর পুলিশের আধিকারিক উমেশ গোয়াল। তিনি মনোরমাকে জানিয়েছেন, ধৃতের বয়স ৩২ বছর। তার নাম বিপ্লব সোরেন। এই ব্যক্তি প্রায় এক বছর ধরে নেভাল অ্যাকাডেমিতে কাজ করছিল।
পায়্যানুর সার্কেল ইন্সপেক্টর মহেশ কে নায়ারের নির্দেশে নেভাল অ্যাকাডেমি থেকেই সোরেনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতার করেন পায়্যানুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর শুহাইব।
উমেশ গোয়াল বলেন, 'ধৃতের আসল নাম বিপ্লব সোরেন কি না, সেটা এখনও তদন্ত করে দেখা হয়নি। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। করা হবে তদন্ত।'
কীভাবে নেভাল অ্যাকাডেমিতে চাকরি?
আইএনএ-তে সোরেন কী ধরনের কাজ করত বা কীভাবে সে সেখানে চাকরি পেল, তা এখনও জানায়নি পুলিশ। তার জন্য সিকিউরিটির কোনও সমস্যা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়েও পুলিশ কোনও মন্তব্য করেনি।
ওদিকে গত চার দিনে কান্নুর জেলায় পাঁচ বাংলাদেশি মহিলাকে বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারপরই এই ঘটনা ঘটল। বৃহস্পতিবারই কান্নুরে বেআইনিভাবে থাকা এবং শহরের একটি স্পা-তে কাজ করার অভিযোগে চার বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার আরও এক বাংলাদেশি মহিলাকে দেশে বেআইনিভাবে থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
ধৃত চার মহিলার নাম নাজমা আক্তার (৪০), তাসলিমা খাতুন (২৫), ময়না খাতুন (২৯) ও নাসরি বিবি (২৮)।
পুলিশ জানিয়েছে, ওডেনপরম্বু এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বেআইনি বাংলাদেশিরা থাকছে বলে গোপন সূত্রে খবর মিলেছিল। সেই মতো তদন্ত শুরু হয়। তারপর আদালত থেকে তল্লাশি অনুমতি নিয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ।
অভিযানের সময় মহিলাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের পরিচয়পত্র মিলেছে। এমনকী পাওয়া গিয়েছে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র। এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্তও।