
২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ইউনিয়নগুলি। যদিও অবশেষে সেই ধর্মঘট বাতিল করা হয়েছে। রবিবার রাতে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)-এর সঙ্গে বৈঠক করে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (ইউএফবিইউ)। তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যার অর্থ সোমবার থেকে স্বাভাবিক নিয়মেই ব্যাঙ্ক চলবে। পরিষেবা পেতে কোনও সমস্যা হবে না গ্রাহকদের।
যতদূর খবর, সোম থেকে শুক্র, ব্যাঙ্কে পাঁচ দিন কাজের দাবিতে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের বিষয়ে আইবিএ সম্মত হয়েছে। সেই কারণেই প্রস্তাবিত ধর্মঘট স্থগিত করে দিল ইউএফবিএ।
কী কী বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে?
বর্তমানে প্রতি মাসের দ্বিতীয় ও চতুর্থ শনিবার ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকে। বাকি ২ সপ্তাহের শনিবার থাকে খোলা। তবে যৌথ কমিটি ব্যাঙ্কের বাকি শনিবারগুলিকে ছুটির আওতায় আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হবে। সেই সঙ্গে গ্রাহক সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তবে এর অর্থ এটা নয় যে এখনই পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু হয়ে যাচ্ছে। ইউএফবিএ-এর সার্কুলারে কমিটিকে সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমাও দেওয়া হয়নি।
এছাড়াও স্কেল ফোর এবং তার ঊর্ধ্বে থাকা অফিসারদের জন্য পারফরম্যান্স-লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিম নিয়েও আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। ইউনিয়নগুলির আপত্তি দূর করতে সরকারের বর্তমান প্রকল্পে কী কী পরিবর্তন আনা যায়, সে বিষয়ে আইবিএ প্রস্তাব দেবে।
কেন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি?
ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির দাবি, ব্যাঙ্ক কর্মীদের প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। তাই সপ্তাহে ৫ দিন কাজের দাবি জানিয়ে এই ধর্মঘট ডেকেছিল তারা। পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালুর বিষয়টি গত দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে আলোচনায় রয়েছে।
যদিও সরকারি সূত্রের বক্তব্য, পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালুর বিষয়ে কোনও চুক্তি হয়নি। আগে বেতন সংক্রান্ত যে আলোচনা হয়, সেখানেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
এমন পরিস্থিতিতে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ইউনিয়নগুলি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। দাবি পূরণ না হলে ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের প্রস্তাবও দিয়েছিল তারা।
রবিবারের সার্কুলারে আপাতত সেই আন্দোলন স্থগিত করার কথা জানানো হয়েছে। এমনকী বাতিল করা হয়েছে ধর্মঘট।
গ্রাহকদের জন্য সুখবর
অর্থ মন্ত্রক গ্রাহকদের জানিয়েছিল, ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ধর্মঘট হলে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে হাফইয়ার্লি ক্লোজিংয়ের তারিখের সঙ্গে ধর্মঘটের সময় মিলে যাওয়ায় সমস্যা আরও বাড়তে পারত।
এমন পরিস্থিতিতে সমস্যা মেটাতে রবিবারও ব্যাঙ্ক খুলে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও রবিবার রাতেই উঠে গেল ধর্মঘট। যার ফলে সোমবার ব্যাঙ্কের শাখাগুলিতে স্বাভাবিক পরিষেবা চালু থাকার কথা। তবে পাঁচ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু করা সহ ইউনিয়নগুলির অন্যান্য দাবিগুলি এখনও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।