
১২৫ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিচ্ছি বিহার সরকার। এবার সেই সুবিধা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। তিনি রবিবার রাজ্যের আর্থিকভাবে সচ্ছল ও আয়করদাতাদের কাছে এই আবেদন করেন। তাঁর আহ্বান, যাঁদের আর্থিক অবস্থা ভাল, তাঁরা এই সুবিধা ছেড়ে দিতে পারেন। এভাবেই বিহারের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারেন। উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ ভর্তুকি বাবদ বিহার সরকার প্রতি বছর প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা খরচ করে। আর সেই টাকার কিছুটা অংশ বাঁচাতে চাইছে তারা।
পটনায় আয়োজিত দু'দিনের 'পাটলিপুত্র ন্যাশনাল ইয়ুথ পার্লামেন্ট ২.০'-এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই আবেদন জানান সম্রাট চৌধুরী। তাঁর দাবি, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারগুলি বিনামূল্যে বিদ্যুতের সুবিধা ছেড়ে দিলে রাজ্যের উন্নয়নে আরও বেশি অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
এখানে বলা প্রয়োজন, বিহার সরকার রাজ্যের সব ধরনের আর্থিক অবস্থার মানুষদের ১২৫ ইউনিট বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দিয়ে থাকে। যেই কারণে ভর্তুকিও লাগে প্রচুর।
যুবসমাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসায় মুখ্যমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং দেশের উন্নয়নে যুবসমাজের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন সম্রাট চৌধুরী।
তিনি জানান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে বিহারের ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে। সেই মূল্যবোধ রক্ষা করতে যুবসমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, দেশের সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং উন্নত ভারত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যুবসমাজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।'
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সম্রাট চৌধুরী জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ ও লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। তাঁর কথায়, দেশ যখন স্বাধীনতার ৮০ বছর পূর্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার নতুন করে নেওয়া প্রয়োজন।
২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের রাজ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সম্রাট চৌধুরী বলেন, গুণগত শিক্ষা এবং জ্ঞান অর্জনই সাফল্য ও সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি।
যুবসমাজকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সংবিধানের মূল্যবোধ এবং দেশ গঠনের কাজে আরও বেশি করে যুক্ত করতে প্রতি বছর যুব সংসদ আয়োজনের পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ তিওয়ারি, সাংসদ শম্ভবী চৌধুরী এবং যুব সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সায়ন কুণাল-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।