
সভা, মিছিল, দেওয়াল লিখন আর হোর্ডিং তো আছেই। তবে নয়া জমানায় রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারে জায়গা করে নিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন এখন নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল এবং অসমে ভোটপর্ব চলার মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছিল বড় রাজনৈতিক দলগুলির ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে খরচের পরিসংখ্যান।
গুগলের অ্যাডস ট্রান্সপারেন্সি সেন্টার এবং মেটার অ্যাড লাইব্রেরির তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৪ রাজ্যে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ৪০ কোটি টাকারও বেশি খরচ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দুই প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার বিজ্ঞাপন দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন ছিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তারপরই ছিল অসম। ডিজিটাল প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিজ্ঞাপনগুলি আসলে কারা দিচ্ছে। মেটায় বিজেপি মূলত নিজেদের দল এবং রাজ্যস্তরের বিভিন্ন পেজ থেকেই বিজ্ঞাপন দিয়েছে। ফলে তাদের ডিজিটাল প্রচারের বড় অংশই নিজেদের নিয়ন্ত্রিত নেটওয়ার্কের মধ্যেই রয়েছে।
ওই সময়ে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে কংগ্রেসের খরচ ৫ কোটি টাকার নীচে। মেটায় খরচ করেছে কেরল এবং অসমের কংগ্রেস। গুগলে তাদের খরচ ছিল তুলনামূলকভাবে কম। পশ্চিমবঙ্গকে টার্গেট করে কংগ্রেসের কোনও বিজ্ঞাপনও ছিল না।
মেটার উপরেই আস্থা তৃণমূলের
বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস শুধু মেটাতেই প্রায় ১.৮ কোটি টাকা খরচ করেছে। গুগলে তাদের কোনও খরচের তথ্য মেলেনি। নিজেদের সরকারি পেজ ব্যবহার করেছে তৃণমূল। তবে প্রচার বাড়াতে তারা তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভর করেছে তৃতীয় পক্ষের পেজ এবং সমর্থক গোষ্ঠীর উপর। উদাহরণ হিসেবে, তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারি পেজ এবং দলের সমর্থনে প্রচার চালানো আরও তিনটি পেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ওই পেজগুলি মিলিয়ে ৩.৫ কোটি টাকারও বেশি বিজ্ঞাপনে খরচ হয়েছে।
বাংলায় গুগল বিজ্ঞাপনের হিসাব
বিজেপি: ১০, ৬৯০টি বিজ্ঞাপনে খরচ করেছে ১২.৭ কোটি টাকা।
কংগ্রেস: ২৯০টি বিজ্ঞাপনে খরচ ১ লক্ষ।
মেটায় বিজ্ঞাপনের হিসাব
বিজেপি: ২৭৩৫টি বিজ্ঞাপনে খরচ করেছে ৬.৫ কোটি টাকা।
তৃণমূল: ১০৯০টি বিজ্ঞাপনে খরচ ১.৮ কোটি।
ডিজিটাল প্রচারে নজরদারি কতটা?
নির্বাচনী প্রচারে সমাজমাধ্যম এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেও সেখানে রাজনৈতিক দলগুলির খরচের হিসাব নজরদারি ও প্রকাশের ব্যবস্থা এখনও সীমিত। অনলাইন প্রচারে খরচের হিসাব প্রকাশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের একাধিক বিধি থাকলেও বাস্তবে সেই খরচের সম্পূর্ণ পরিসর খুঁজে বার করা এবং নিয়ন্ত্রণ করা এখনও যথেষ্ট কঠিন।