Advertisement

PM Modi Brics Summit: 'আর নিয়ম মেনে চলা নয়, নিয়ম তৈরি করুক গ্লোবাল সাউথ', ব্রিকসের বোধনে PM মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণের মাধ্যমে BRICS শীর্ষ সম্মেলন শুরু হল, যেখানে তিনি বলেন, গ্লোবাল সাউথ আজ গ্লোবাল সঙ্কটের সম্মুখ সারিতে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা পেছনের সারিতেই থেকে যায়।

 BRICS-এর মঞ্চ থেকে কী বার্তা দিলেন মোদী? BRICS-এর মঞ্চ থেকে কী বার্তা দিলেন মোদী?
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 12 Sep 2026,
  • अपडेटेड 4:43 PM IST

BRICS শীর্ষ সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে এই সম্মেলনের সূচনা করেন। BRICS  দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'নমস্কার, ভারতে আপনাদের সকলকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। ভারতের BRICS সভাপতিত্ব জনকেন্দ্রিক এবং মানবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।'

৩০টি শহরে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন যে, নমনীয়তা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব আমাদের অগ্রাধিকার। এই অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, আমরা BRICS সহযোগিতাকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৩০টি শহরে আপনাদের টিমগুলোকে স্বাগত জানানোর সুযোগ আমাদের হয়েছিল। ভারতের BRICS  সভাপতিত্বকে সফল করতে আপনাদের সক্রিয় অবদান ও সমর্থনের জন্য আমি আপনাদের সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

প্রতি বছর সভাপতির পদ পরিবর্তিত হয়
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে, যদিও প্রতি বছর BRICS-এর সভাপতি  পরিবর্তিত হয়, তবুও  আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজের গতিকে প্রভাবিত করা উচিত নয়। আমি BRICS-এর জন্য একটি ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব করছি। এর মাধ্যমে একটি 'ট্রোইকা' পদ্ধতির সাহায্যে সমস্ত উদ্যোগ এবং তার ফলাফলের ওপর নজর রাখা সম্ভব হবে। আমরা প্রতিটি সিদ্ধান্তের নোডাল পয়েন্ট, সময়সীমা এবং বাস্তবায়নের অবস্থা নথিভুক্ত করার জন্য একটি সুরক্ষিত ডিজিটাল ভান্ডারও তৈরি করতে পারি।

 

গ্লোবাল সাউথ সঙ্কটগুলোর সম্মুখ সারিতে
প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন যে, ব্রিকসকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আমাদের বৈশ্বিক সংস্কারের পথও নির্ধারণ করতে হবে। বৈশ্বিক শাসনের বর্তমান কাঠামোটি একটি পিরামিডের মতো। ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এর শীর্ষে কেন্দ্রীভূত, এবং এর নীচে রয়েছে সেইসব দেশ যারা এই সিদ্ধান্ত দ্বারা প্রভাবিত হলেও সেগুলোকে রূপ দিতে পারে না। আজ, গ্লোবাল সাউথ বৈশ্বিক সঙ্কটগুলোর সম্মুখভাগে থেকেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পেছনের সারিতেই রয়ে গেছে।

Advertisement

গ্লোবাল সাউথ বলতে কী বোঝায়?
গ্লোবাল সাউথ কোনও আনুষ্ঠানিক সংস্থা বা ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, বরং এটি বিশ্বের এমন দেশগুলোকে বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত একটি পরিভাষা, যারা ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমের উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কম প্রভাবশালী। এর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক উন্নয়নশীল দেশ অন্তর্ভুক্ত। ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশ এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। 'গ্লোবাল সাউথ' পরিভাষাটি এখন প্রধানত উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশ অন্তর্ভুক্ত। এই দেশগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে পরবর্তীকালে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য, ঋণ এবং বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিধিত্বের অভাবের মতো নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।

১০টি প্রস্তাব প্রস্তুত করুন
প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, 'আমি প্রস্তাব করছি যে আমরা যৌথভাবে গ্লোবাল গভর্নেন্স সংস্কারের জন্য ১০টি প্রস্তাব তৈরি করি, যা আমরা পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে একটি 'ব্রিকস রিফর্ম রোডম্যাপ'-এ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি। এই রোডম্যাপটি তৈরি করার ক্ষেত্রে আমাদের তিনটি মূল দিক বিবেচনা করতে হবে: প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি (Responsiveness) এবং রুল মেকিং (Rule-making)।'

সঠিক ভূমিকা খুঁজে বের করতে হবে
তিনি বলেন, 'প্রথমত, প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমি বলতে চাই যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যাবে না। এ বিষয়ে লিখিত আলোচনা অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সুস্পষ্ট ফলাফলের সঙ্গে  যুক্ত থাকতে হবে। সেইসঙ্গে, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোটাধিকার, নেতৃত্বের পদ এবং নীতিগত অগ্রাধিকার অবশ্যই আজকের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধির চালিকাশক্তি দেশগুলোরও গ্লোবাল ইকনমিক গভর্নেন্স গঠনে একটি ন্যায্য ভূমিকা থাকা উচিত।'

বিশ্ব বাণিজ্যে বড় অবদান
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'দ্বিতীয়ত, সাড়াদান ক্ষমতা। বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানবতার আস্থা তখনই তৈরি হবে, যখন তারা কার্যকরভাবে সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে। আমাদের অবশ্যই সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার গতি, ব্যাপকতা এবং শেষ প্রান্তের প্রভাবের ওপর মনোযোগ দিতে হবে। নাবিকেরা বিশ্ব বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন, কিন্তু কঠিন সময়ে তারা প্রায়শই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন। আমি প্রস্তাব করছি, আমরা কি একটি ' জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক' তৈরি করতে পারি? এটি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মিশনগুলোকে সংযুক্ত করবে। এর মাধ্যমে বিপদ সঙ্কেত, চিকিৎসা সহায়তা, পরিবারকে তথ্য প্রদান এবং উদ্ধারে সহায়তা করা সম্ভব হবে।'

আইনি দক্ষতা প্রদানের ক্ষমতা
প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, 'তৃতীয় যে বিষয়টি আমি বলতে চাই, তা হলো বিধি প্রণয়ন প্রসঙ্গে। ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নিয়মকানুন নির্ধারণে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবারস্পেস, মহাকাশ, জৈবপ্রযুক্তি এবং অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তিগুলো ভবিষ্যতের সুযোগের পাশাপাশি ভবিষ্যতের নিয়মকানুনকেও রূপ দিচ্ছে। আমাদের অবশ্যই গ্লোবাল সাউথকে 'বিধি গ্রহণকারী' থেকে 'বিধি প্রণেতা'-তে রূপান্তরিত করার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। ব্রিকসের মাধ্যমে আমরা গ্লোবাল সাউথের তরুণ কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের আলোচনা দক্ষতা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং আইনি এক্সপার্টাইজ প্রদান করতে পারি।'

ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুন...
তিনি আরও বলেন যে, এক শুভ সংযোগের বিষয় যে  আজ  ইউনাইটেড নেশন ডে ফর সাউথ-সাউথ কোয়াপারেশন  দিবস। গ্লোবাল সাউথের প্রতি উৎসর্গীকৃত এই দিনে এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ভারত এই বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। বন্ধুরা, ভারতে অনুষ্ঠিত এই ব্রিকস সম্মেলনের বার্তাটি স্পষ্ট হওয়া উচিত: যদি আমাদের ভবিষ্যৎ ভাগাভাগি হয়, তবে তা গড়ার অধিকারও ভাগাভাগি হতে হবে।

ব্রিকস দুই দশক পুরনো
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ২০২৬-এ ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন যে, এ বছরের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। আমরা ব্রিকসের ২০ তম বার্ষিকী উদযাপন করছি। ২০ বছর বয়স মানবজীবনে পরিপক্কতা ও দায়িত্বের এক নতুন পর্বের সূচনা করে। এটি সেই পর্যায় যখন স্বপ্নের সঙ্গে দায়িত্ব যুক্ত হয়। সম্ভাবনা একটি নতুন দিক খুঁজে পায়। আজ ব্রিকসও তার 'পরিপক্কতার' সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিগত ২০ বছরে ব্রিকস বিশ্বমঞ্চে নিজের জন্য একটি অনন্য পরিচয় তৈরি করেছে।

Advertisement

আমরা কারও বিরুদ্ধে নই
তিনি বলেন, 'আমরা একে অপরের মতামতকে সম্মান করি এবং দায়িত্বের সঙ্গে এগিয়ে যাই। আমরা কারও বিরুদ্ধে নয়, বরং অন্তর্ভুক্তির একটি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে সচেষ্ট। এখন সময় এসেছে ব্রিকসে আমাদের ঐক্য ও ঐকমত্যকে বিশ্বমঞ্চে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করার। আমাদের আগামী ২০ বছরের জন্য একটি নতুন ও উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের নিজস্ব কার্যপ্রণালী দিয়ে শুরু করতে হবে। প্রতি বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব পরিবর্তিত হয়। কিন্তু এটি আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক গতিকে থামিয়ে দিতে পারে না। আমি একটি ব্রিকস ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া' প্রস্তাব করছি। এর অধীনে, ট্রোইকার মাধ্যমে সমস্ত উদ্যোগ এবং ফলাফলের উপর নজর রাখা যেতে পারে...।'

Read more!
Advertisement
Advertisement