Advertisement

Protest FIR: বিক্ষোভে গিয়ে আপনার নামে FIR হলে কি আটকাবে পাসপোর্ট, চাকরিতে প্রভাব পড়বে? জেনে নিন

বিক্ষোভে গিয়ে হতে পারে FIR। কিন্তু তাতে কি পাসপোর্ট আটকে যেতে পারে? চাকরিতে পড়তে পারে প্রভাব? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

বিক্ষোভে গিয়ে FIRবিক্ষোভে গিয়ে FIR
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 27 Jul 2026,
  • अपडेटेड 11:45 AM IST
  • বিক্ষোভে গিয়ে হতে পারে FIR
  • তাতে কি পাসপোর্ট আটকে যেতে পারে?
  • চাকরিতে পড়তে পারে প্রভাব?

'আমার পুলিশ কেসের কোনও ভয় নেই। আমরা কী ভুল করেছি? আমরা সরকারকে নিজেদের দাবির কথা জানিয়েছে। আমাদের কোনও খারাপ উদ্দেশ্য নেই। তাহলে কেন ভয় পাব? আমাদের একটা ভাল শিক্ষাব্যবস্থা চাই।'

এমনটাই বলছিলেন ২২ বছরের রবি। তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রদের বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। ওই বিক্ষোভের সময় তাঁর আশপাশে থাকা অনেক ছাত্রছাত্রীই মুখ ঢেকেছিলেন মাস্ক ও চশমায়। 

রবির বিশ্বাস, তিনি কোনও অন্যায় করছেন না। তবে তিনি হয়তো বুঝতে পারছেন না যে, তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হলেও ভবিষ্যতে চাকরি, পাসপোর্ট, কিংবা বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তবে মুখে মাস্ক পরা পড়ুয়ারা অন্য কথা বলছেন। ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল-কে তাঁরা জানিয়েছেন, কাউকে আক্রমণ করতে আসেননি। দিল্লি পুলিশের এআই ফেসিয়াল রেকগনিশন ক্যামেরা থেকে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতেই তাঁরা মুখ ঢেকেছিলেন।

'চলো সংসদ' আন্দোলন থেকে সংঘর্ষ

২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ডাকা 'চলো সংসদ' কর্মসূচিতে হাজার হাজার ছাত্র-যুব অংশ নেন। নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদেই এই আন্দোলনের শুরু হয়। তারপর পুলিশ ও পড়ুয়াদের মধ্যে শুরু হয়ে যায় সংঘর্ষ।

মাথায় রাখতে হবে, যন্তর মন্তরে মোতায়েন ছিল দিল্লি পুলিশের ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম ও মোবাইল নজরদারি ভ্যান। ইন্ডিয়া টুডে টিভি-এর দাবি, ওই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ২,৫০০ এরও বেশি ক্রাইমের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছিল।

আর এখনও পর্যন্ত সেই বিক্ষোভ ঘিরে ১৫টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। যদিও সিজেপি ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি তোলে। আর কেন্দ্র তাদের দাবি মেনে নেয়।

পুলিশের দাবি কী?
দিল্লি পুলিশের দাবি, ক্যামেরাগুলি অপরাধীদের শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এগুলি ব্যবহার হয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, এই ধরনের নজরদারি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উপর হস্তক্ষেপ।

কেন মুখ ঢেকেছিলেন ছাত্ররা?

বিষয়টা নিয়ে মুখ খোলেন উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের ২৮ বছরের অশ্বিনী বর্মা। তিনিও নিজের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। এই প্রসঙ্গে অশ্বিনী বলেন, 'আমি পিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমার মামলার ভয় রয়েছে। কিন্তু আমি বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রাখি। মিথ্যা মামলা হলে আদালত আমাকে মুক্তি দেবে। তবুও আমি মাস্ক পরে এসেছি, যাতে ভবিষ্যতে ভুলভাবে আমাকে চিহ্নিত না করা যায়।'

Advertisement

যদিও বিষয়টিকে পাত্তা দিতে নারাজ ছিলেন রবি। তিনি বলেন, 'জবাব চাইলে আমি ভয় পাই না। বিদেশে পড়তে যেতে না পারলেও সমস্যা নেই। পুলিশি মামলাকে শুধু অপরাধীরাই ভয় পায়। ছাত্ররা নয়।' কিন্তু তারপরও বিক্ষোভস্থলে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী মুখ ঢেকেই ছিলেন।

এফআইআর হলে কী সমস্যা হতে পারে?
বিক্ষোভে নিয়মিত উপস্থিত থাকা এক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, 'আপনার নামে এফআইআর হলে তা একটা সরকারি রেকর্ড হয়ে যায়। ভবিষ্যতে ভিসা, বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির আবেদন করার সময় অনেক ক্ষেত্রেই জানাতে হয় যে আপনার বিরুদ্ধে কখনও এফআইআর হয়েছিল কি না। এমনকী পরে আপনি নির্দোষ প্রমাণিত হলেও সেই তথ্য অনেক জায়গায় জানাতে হয়।'

তাঁর মতে, এখন ছাত্রদের সবচেয়ে বড় ভয় লাঠিচার্জ নয়, আইনি জটিলতা। তাই তাঁরা মুখ ঢেকে এসেছে। আক্রমণ করতে নয়, নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতেই এই কাজ করেছে তাঁরা।

আইনজীবীরা কী বলছেন?
বম্বে হাইকোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী বিনোদ শেট্টির মতে, 'শুধু এফআইআর হওয়া মানেই চাকরি শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হলে সরকারি চাকরিতে বড় কোনও প্রভাব পড়া উচিত নয়। ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে বহু ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।'

তবে তিনি সতর্ক করে জানান, অনেক সময় ছাত্রদের ভয় দেখাতে গুরুতর মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা।

পাসপোর্ট আইন কী বলছে?
পাসপোর্ট আইন, ১৯৬৭-এর ৬(২)(এফ) ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন থাকলে পাসপোর্ট দেওয়া আটকে যেতে পারে।

তবে কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, পাঞ্জাব-হরিয়ানা, জম্মু-কাশ্মীর এবং মাদ্রাজ হাইকোর্ট একাধিক রায়ে জানিয়েছে—

শুধু এফআইআর দায়ের হলেই পাসপোর্ট বাতিল বা আটকে রাখা যাবে না। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করার পরই মামলাকে বিচারাধীন ধরা হবে।

তবুও পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় এফআইআর ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রে আদালতের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা এনওসি লাগতে পারে। যার ফলে পাসপোর্ট পেতে দেরি হতে পারে।

মুম্বইয়ের সংবাদপত্র মিড-ডে-তে সম্প্রতি প্রবীণ সাংবাদিক বিনোদ কুমার মেনন জানিয়েছেন, ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর দায়ের করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, নির্দিষ্ট থানার এখতিয়ার স্পষ্ট হওয়ার আগেই দায়ের হওয়া এই ধরনের এফআইআর-ও একটি সরকারি রেকর্ড তৈরি করে। আর সেটাও সমস্য়ার বিষয়।


বেসরকারি চাকরি ও সরকারি কাজে প্রভাব
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাবলিক পলিসি এক্সপার্ট, যিনি আগে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন, বলেন, 'সরকারি প্রকল্প, কনসালটেন্সি, এনজিও বা সরকারি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অনেক ক্ষেত্রেই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক চুক্তিতেই প্রকাশ্যে মতামতের বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হয় না। এমনকী সামান্য আটক হলেও পেশাগত জীবনে সমস্যা তৈরি হতে পারে।'

বিদেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে কী হতে পারে?
আমেরিকা, কানাডা, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের একাধিক দেশে ভিসা আবেদন করার সময় অপরাধমূলক মামলা বা বিচারাধীন মামলার তথ্য জানাতে হয়। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি-

  • শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনের মামলা অনেক সময় ব্যাখ্যা করে ভিসা পাওয়া সম্ভব।
  • কিন্তু হিংসা বা মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
  • অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ও বিচারাধীন মামলা থাকলে ভর্তি নিতে চায় না।

যদিও ভারতের আদালত অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে জামিনে মুক্ত ছাত্রদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

প্রথমবার বিক্ষোভে গেলে কী জানা জরুরি?

  • এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন আইনজীবী বিনোদ শেট্টি। তাঁর পরামর্শ-
  • পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে বিক্ষোভে যাওয়া উচিত।
  • কর্মসূচির অনুমতি আছে কি না, জেনে নিতে হবে।
  • গ্রেফতারের সম্ভাবনা কতটা, সেটা মাথায় রাখতে হবে।
  • নিজের আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবীর কথায়, 'শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার বা বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। না হলে সেই রেকর্ড বহু বছর ছাত্রদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করতে পারে।'

এফআইআর মানেই দোষী নয়
২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে, এফআইআর মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। আদালতও জানিয়েছে, শুধু এফআইআর-এর ভিত্তিতে পাসপোর্ট আটকে রাখা যায় না।

Advertisement

তবুও বাস্তবে সমস্যা থেকে যায়। পুলিশি রেকর্ড, ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন, পাসপোর্ট, ভিসা এবং বিদেশে পড়াশোনার আবেদন, সব ক্ষেত্রেই সেই তথ্য সামনে আসতে পারে। 
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement