
চলতি বছরে অদ্ভুত খেলা খেলছে বর্ষা। কখনও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর জন্য তীব্র বৃষ্টি হচ্ছে। আবার কখনও হচ্ছে বৃষ্টির ঘাটতি। তবে এসবের মাঝেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের আবহাওয়া সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (ডব্লুএমও) সতর্ক করেছে। তাদের দাবি, আগামী কয়েক মাসে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। যার ফলে এটি সুপার এল নিনো-তে পরিণত হতে পারে।
মাথায় রাখতে হবে, ভারতীয় আবহাওয়া দফতর বা আইএমডি ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, অগাস্ট মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে। আর এমন সময়ই এল নিনো নিয়ে সতর্ক করল ডব্লুএমও।
ডব্লুএমও-এর মতে, ২০২৬ সালের অগাস্ট থেকে অক্টোবর সময়কালে সুপার এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং পজিটিভ ইন্ডিয়ান ওসিয়ান ডাইপোল-এর প্রভাবের জন্য বিশ্বের অনেক অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় তাপমাত্রা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টির ধরনেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
এর ফলে কোথাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হবে। আবার অন্য কোথাও জায়গায় খরার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
এ বছর ভারতে বর্ষা ছিল অনিয়মিত
চলতি বছরে ভারতের মৌসুমি বৃষ্টি শুরু থেকেই অদ্ভুত আচরণ করেছে। জুন মাসের শেষে দেশে বর্ষার ঘাটতি ছিল ৩৯.৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানের জন্য গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি অন্যতম শুষ্ক জুন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে জুলাই মাসে একাধিক নিম্নচাপ অ্যাক্টিভ হয়। যার ফলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। বিশেষত, মধ্য, পশ্চিম ও উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভালো বৃষ্টি হয়।
তবে এই সময় দেশের সব জায়গায় সমান বৃষ্টি হয়নি। কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে, আবার কোথাও এখনও বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। আর এমন সময়ই খারাপ খবর দিয়েছে আইএমডি। তারা জানিয়েছে, অগাস্ট মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অগাস্টে বৃষ্টির পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি গড় বা লং পিরিয়ড এভারেজের প্রায় ৯৪ শতাংশ থাকতে পারে।
এছাড়াও আইএমডি জানিয়েছে, বর্ষার দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো মাঝারি রূপ নিতে পারে। যার ফলে বৃষ্টি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।
কেন এল নিনো নিয়ে ঝামেলা?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এল নিনো একটি স্বাভাবিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আবহাওয়ার উপর পড়ে। ভারতের ক্ষেত্রেও এর অন্যথা হয় না। অতীতে দেখা গিয়েছে, এল নিনো অ্যাক্টিভ হলেই বর্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে।
ডব্লুএমও জানিয়েছে, বিভিন্ন পূর্বাভাস অনুযায়ী অগাস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে এল নিনো অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে। আর এটাই শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত। যার ফলে ভারতে বর্ষা বিপদে পড়তে পারে।