Advertisement

ডার্ক ওয়েবে ক্যাপ্টাগনের রমরমা, ভারতে ‘জেহাদি ড্রাগ’ বিক্রিতে সক্রিয় আন্তর্জাতিক চক্র 

সম্প্রতি নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো প্রায় ১৮০ কোটি টাকার ক্যাপ্টাগন উদ্ধার করার পর ফের সামনে এসেছে ডার্ক ওয়েবে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের ভয়াবহ চিত্র। তদন্তে উঠে এসেছে, ভারত সহ বিভিন্ন দেশের সরবরাহকারীরা ডার্কনেট মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে এই নিষিদ্ধ উত্তেজক মাদক বিক্রি করছে।

ফাইল ছবিফাইল ছবি
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 20 May 2026,
  • अपडेटेड 5:29 PM IST
  • সম্প্রতি নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো প্রায় ১৮০ কোটি টাকার ক্যাপ্টাগন উদ্ধার করার পর ফের সামনে এসেছে ডার্ক ওয়েবে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের ভয়াবহ চিত্র।
  • তদন্তে উঠে এসেছে, ভারত সহ বিভিন্ন দেশের সরবরাহকারীরা ডার্কনেট মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে এই নিষিদ্ধ উত্তেজক মাদক বিক্রি করছে।

সম্প্রতি নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো প্রায় ১৮০ কোটি টাকার ক্যাপ্টাগন উদ্ধার করার পর ফের সামনে এসেছে ডার্ক ওয়েবে সক্রিয় আন্তর্জাতিক মাদকচক্রের ভয়াবহ চিত্র। তদন্তে উঠে এসেছে, ভারত সহ বিভিন্ন দেশের সরবরাহকারীরা ডার্কনেট মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে এই নিষিদ্ধ উত্তেজক মাদক বিক্রি করছে।

ডিপ ওয়েব ও ডার্কনেট প্ল্যাটফর্মে চালানো ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স অনুসন্ধানে একাধিক গোপন মার্কেটপ্লেসের সন্ধান মিলেছে, যেখানে প্রকাশ্যেই ক্যাপ্টাগন ট্যাবলেট ও পাউডার বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং গোপন শিপিং ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।

তদন্তে ‘ইন্ডিয়ান কেটামিন’ নামে একটি পোর্টালের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে মাদক সরবরাহের দাবি করা হয়েছে। সেখানে ক্যাপ্টাগন পাউডার সংস্করণও বিক্রির তালিকায় ছিল। মূলত ফেনেথিলিন নামে পরিচিত এই মাদকটি বিভিন্ন জায়গায় বায়োক্যাপটন বা ফিটন নামেও বিক্রি হয়।

ক্যাপ্টাগন পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় বিশ্বজুড়ে কুখ্যাতি পায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, আইএসআইএস-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠন এই উত্তেজক মাদক ব্যবহার করত। ক্ষুধা ও ভয় কমিয়ে দীর্ঘ সময় জেগে থাকার ক্ষমতা বাড়ায় বলেই এটি 'জেহাদি ড্রাগ' নামে পরিচিতি পায়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ডার্ক ওয়েবের একাধিক মার্কেটপ্লেসে আন্তর্জাতিক ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রকাশ্যে এই মাদক বিক্রি করা হচ্ছে। নজরদারি এড়াতে বিক্রেতারা উন্নত গোপন কৌশল ব্যবহার করছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অর্থপ্রদান হচ্ছে বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।

একটি ডার্কনেট প্ল্যাটফর্মে এক বিক্রেতাকে প্রায় ১৪০ ডলারে ২০০টি ক্যাপ্টাগন পিল বিক্রি করতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়েছে, বিশেষ স্ক্যানার-প্রতিরোধী প্যাকেজিং ব্যবহার করে বিমানবন্দর ও কার্গো স্ক্যানার ফাঁকি দেওয়া হয়। তাপ-সিল করা ব্যাগের মধ্যে বিশেষ সংকর ধাতু ও সিন্থেটিক স্তর ব্যবহার করে প্যাকেট তৈরি করা হয়, যাতে এক্স-রে স্ক্যানারে ভেতরের বস্তু স্পষ্টভাবে ধরা না পড়ে।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয়ের ২০২৫ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য এখনও ক্যাপ্টাগন পাচারের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলো এই মাদকের প্রধান বাজার হিসেবে রয়ে গেছে। শুধু ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকেই আরব অঞ্চলে অন্তত ১৭৭ মিলিয়ন ক্যাপ্টাগন ট্যাবলেট, অর্থাৎ প্রায় ৩০ টন মাদক, উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডার্ক ওয়েবভিত্তিক এই মাদক ব্যবসা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং গোপন লেনদেনের কারণে এই চক্রকে চিহ্নিত ও দমন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement