
এ বার ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতীয় এই পাইলট ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচাতে বিরাট ভূমিকা পালন করেন। তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তাঁকে ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এক্স-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদী লেখেন, 'ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর একজন হিরো।'
তিনি আরও বলেন, 'সবচেয়ে ভয়াবহ বিপদের মুখেও, গুরুতর আহত থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্যদের জীবন রক্ষায় অসীম সাহস দেখিয়েছেন। তাঁর বীরত্ব শত শত মানুষের জীবন বাঁচাতে ও একটি বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে।'
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, 'ক্যাপ্টেন মচ্ছরকে নিয়ে ভারত গর্বিত। তাঁর দ্রুত আরোগ্য এবং সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করছি।'
ওদিকে ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন মচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও তাঁর প্রশংসা করেন। সহ পাইলটের ছুরি হামলা প্রতিহত করে তিনি ককপিটের দরজা খুলে সাহায্যের জন্য ডাকেন। এর ফলে বিমানটিকে ক্র্যাশ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি জানান, 'পাইলট খুব খারাপ অবস্থায় ছিলেন। আমার মনে হয় এখনও তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ। কিন্তু সেই অবস্থাতেও তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। এক অর্থে তিনি একজন হিরো।'
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের প্রশংসা করেন। সহকর্মীর ছুরিকাঘাতের পর যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য তিনি মচ্ছরকে কৃতিত্ব দেন।
ইজরায়েলি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিমানের যাত্রীদের বুধবার নিরাপদে ইজরায়েলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও ক্রুরা মিলে সহ-পাইলটের বিমানটি ক্র্যাশ করার চেষ্টা ব্যর্থ করেন।
ঠিক কী হয়েছে?
আসলে এই ফ্লাইটের এক পাইলট সহ-পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এরপর মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪,০০০ ফুট বা ৪,২৬৭ মিটার নীচে নেমে যায়। প্লেনটি ক্র্যাশ করার পরিস্থিতিতে চলে যায়। যদিও পরিস্থিতি সামাল দেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর।
নেতানিয়াহুর এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা ক্যাপ্টেন মচ্ছর কোনওভাবে ককপিটের দরজা খোলার রিলিজ বাটনটি প্রেস করেন। এর ফলে যাত্রী ও ক্রুরা সহ-পাইলটকে কাবু করার সুযোগ পান। বিমানে থাকা আরও দুই ফ্লাইদুবাই পাইলট পরে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান।
সৌদি আরবে থাকা ভারতীয় আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেন মচ্ছরকে উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর পরিবার এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সবরকম সাহায্য করার চেষ্টা করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্স-এ জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন মচ্ছরের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।
মুম্বইয়ের বাসিন্দা ক্যাপ্টেন মচ্ছরের অস্ত্রোপচারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’।