
২৩ দিনে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। আমেরিকা ও ইজরায়েল বনাম ইরানের এই যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গোটা বিশ্ব। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে জ্বালানির ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভর দেশগুলির উপর। ভারতও রয়েছে সেই তালিকায়। মূলত ইরানের তরফে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হতেই টলে গিয়েছে বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজার। এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী যে কোনও জাহাজে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিল ইরান। কার্যক্ষেত্রে তারা তাই করছিলও। এমন পরিস্থিতিতে প্ল্যান B-এর পথে হেঁটেছিল নয়াদিল্লি।
ভারতের জ্বালানি আমদানির বিষয়ে এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের উপর অতিরিক্ত নির্ভর থাকলেও, যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে, সেই ধাঁচ থেকে বেরিয়ে আসছে নয়াদিল্লি। হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরতা কমাতে সম্প্রতি ভারত এলপিজির জন্য যোগাযোগ করেছিল আমেরিকার সঙ্গে। সেই রাস্তায় এল সাফল্য। টেক্সাস থেকে বিপুল পরিমাণে LPG নিয়ে ম্যাঙ্গালুরু এল ‘পাইক্সিস পাইওনিয়ার’ নামের জাহাজটি। রবিবার সকালে এই জাহাজটি ম্যাঙ্গালুরু এয়ারপোর্টে নোঙর ফেলেছে।
তবে এখানেই শেষ নয়। আগামী ২৫ মার্চ অ্যাপোলো ওশেন নামক জাহাজটিও ইন্ডিয়ান অয়েল এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের জন্য ২৬,৬৮৭ টন গ্যাস নিয়ে আসবে। এরপর ২৯ মার্চ ফের একবার আমেরিকা থেকে আরও একটি জাহাজ ৩০,০০০ টন গ্যাস নিয়ে আসবে ম্যাঙ্গালুরুর উপকূলে। এই LPG গ্যাস আসবে এইচপিসিএল-এর জন্য।
এর মানে হল, এই সপ্তাহেই শুধু ম্যাঙ্গালুরুতেই ৭২,৭০০ টনেরও বেশি LPG এসে পৌঁছাবে। তবে এই গ্যাস শুধু ম্যাঙ্গালুরুর জন্য নয়। এইচপিসিএল-এর পাইপলাইন এই শহর থেকে সরাসরি বেঙ্গালুরু এবং তারও বাইরে ছড়িয়ে রয়েছে। ফলে দক্ষিণ ভারতের লক্ষ লক্ষ পরিবার এই গ্যাসের মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাবে।
অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় ম্যাঙ্গালুরু বন্দরে এসেই নোঙর ফেলেছে Aqua Titan নামে একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ। মাঝারি আকারের এই অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি জানুয়ারির শেষ দিকে বাল্টিক সাগরের একটি বন্দর থেকে তেল বোঝাই করে রওনা দিয়েছিল এই জাহাজ। প্রথমে এর গন্তব্য ছিল চিনের রিজাও বন্দর। তবে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎই দিক পরিবর্তন করে ভারতমুখী হয়ে যায় ট্যাঙ্কারটি।