
পুরীর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার প্রস্তুতিতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটল অবশিষ্ট কাঠ নিয়ে বিতর্ককে কেন্দ্র করে। বুধবার প্রায় চার ঘণ্টার জন্য তিনটি রথ নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, যখন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত অবশিষ্ট কাঠ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভে সামিল হন কাঠমিস্ত্রিরা।
অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে শুরু হওয়া রথ নির্মাণের কাজ টানা ৫৮ দিন ধরে চলছে। এই কাজে যুক্ত রয়েছেন মহারানা সেবক সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সূত্রধররা। তাঁদের দাবি, মন্দিরের অধিকার সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী রথ তৈরির পর অবশিষ্ট কাঠের ছোট টুকরো নিজেদের কাছে রাখার অধিকার তাঁদের রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই প্রথা চলে আসছে বলেও জানান তাঁরা।
সূত্রধরদের অভিযোগ, সম্প্রতি শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন একটি নির্দেশিকা জারি করে ওই অবশিষ্ট কাঠ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। এর প্রতিবাদেই তাঁরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে সামিল হন।
একজন কাঠমিস্ত্রি নৃসিংহ মহাপাত্র বলেন, “রথ নির্মাণের পর যে ছোট ছোট অব্যবহৃত কাঠের টুকরো বেঁচে যায়, সেগুলি নেওয়ার অধিকার আমাদের রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন আমাদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এবং অযথা কাজে হস্তক্ষেপ করছে।”
পরিস্থিতি সামাল দিতে মন্দির প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি রথের প্রধান সূত্রধরদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। পরে এসজেটিএ-র নীতি প্রশাসক প্রিয়রঞ্জন প্রুস্টি জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, “অবশিষ্ট কাঠের পরিবর্তে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এরপরই সূত্রধররা কাজে ফিরেছেন।” প্রশাসনের দাবি, ভবিষ্যতে রথ নির্মাণে ব্যবহারের জন্য অবশিষ্ট কাঠ সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই কারণেই নতুন এই বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কাঠমিস্ত্রিদের বক্তব্য, তাঁরা কখনও বড় কাঠ নিয়ে যাননি। সাধারণত চার ফুটের কম দৈর্ঘ্য এবং তিন ফুটের কম প্রস্থের ছোট ছোট অবশিষ্ট টুকরোই তাঁরা সংগ্রহ করতেন। তাঁদের মতে, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত একতরফা এবং অযৌক্তিক।
উল্লেখ্য, রথ নির্মাণে প্রায় ২০০ জন কারিগর যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাঠমিস্ত্রি, কামার, কাঠুরে, দর্জি, চিত্রকর ও অন্যান্য সেবায়েতরা।
এ বছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জুলাই। ভগবান জগন্নাথের ৪৫.৬ ফুট উঁচু নন্দীঘোষ, ভগবান বলভদ্রের ৪৫ ফুট উঁচু তালধ্বজ এবং দেবী সুভদ্রার ৪৪.৬ ফুট উঁচু দর্পদলন রথ নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় ৮৬৫টি বড় কাঠের গুঁড়ি। রথযাত্রার আগে এই সাময়িক অচলাবস্থা কাটলেও, অবশিষ্ট কাঠ নিয়ে বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।