
ভারতীয় বিচারব্যবস্থায় মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসনে সংরক্ষণ করতে হবে। এই দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। তার শুনানি করতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই বিষয়টি বিচার ব্যবস্থার হস্তক্ষেপের আওতায় পড়ে না। এটি প্রশাসনিকস্তরে বিবেচনার বিষয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলা ওঠে। শুনানির সময় বেঞ্চ জানায়, 'আমরা এই বিষয়টি প্রশাসনিক দিক থেকে বিবেচনা করছি। এই ধরনের আবেদন করে আমাদের তা খারিজ করতে বাধ্য করবেন না।'
যদিও আদালত আবেদনকারীকে সম্পূর্ণভাবে নিরাশ করেনি। বেঞ্চের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, এই দাবিগুলি নিয়ে সরাসরি সরকারের কাছে একটি স্মারকলিপি (মেমোরান্ডাম) জমা দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, আদালত এই বিষয়ে সরাসরি নির্দেশ না দিলেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আবেদনকারীর দাবি ছিল, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং নিম্ন আদালত- সবস্তরের বিচারক নিয়োগে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করা হোক। পাশাপাশি, সরকারি আইনজীবী বা প্রসিকিউটরদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ৫০ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার প্রস্তাব রাখা হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিচারব্যবস্থায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব এখনও অত্যন্ত কম। সংসদে পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ৮১৩ জন কর্মরত বিচারকের মধ্যে মাত্র ১১৬ জন মহিলা, যা মোট সংখ্যার প্রায় ১৪.২৭ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান বিচারব্যবস্থায় লিঙ্গ বৈষম্যের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
এছাড়াও জানানো হয়, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টেও মাত্র একজন মহিলা বিচারপতি রয়েছেন, যা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নারীদের প্রতিনিধিত্বের সীমাবদ্ধতাকেই নির্দেশ করে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে বিচার প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্য ও ভারসাম্য আসে। তবে সংরক্ষণ চালু করার মতো বিষয়গুলি নীতিনির্ধারণী স্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, যা সংসদ ও সরকারের ওপর নির্ভরশীল।