
তিন নম্বর সন্তান হলে ৩০ হাজার টাকা। চারে ৪০ হাজার টাকা। এমনই ঘোষণা করেছেন ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। অবাক হচ্ছেন! ভারতের মতো জনসংখ্যাবহুল দেশে এও সম্ভব! এটা মোটেও মশকরা নয়। বিজেপির শরিক দলের মুখ্যমন্ত্রীই এই ঘোষণা করেছেন।
রাজ্যে জন্মহার বাড়াতে অভিনব ঘোষণা করলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। শনিবার শনিবার শ্রীকাকুলাম জেলার নরসন্নপেটার জনসভায় তিনি জানিয়েছেন,এবার থেকে রাজ্যে কোনও পরিবারে তৃতীয় সন্তান জন্মগ্রহণ করলে ৩০ হাজার টাকা দেবে সরকার। আর যদি চতুর্থ সন্তান হলে মিলবে ৪০ হাজার টাকা।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের মার্চে নায়ডু বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে দম্পতিদের ২৫,০০০ টাকা দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। প্রথমে শুধু দ্বিতীয় সন্তানের জন্মেই আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যকুমার যাদব জানান, সরকার সিদ্ধান্ত বদলেছে।
এ দিন নরসন্নপেটায় 'স্বর্ণ অন্ধ্র-স্বচ্ছ অন্ধ্র' কর্মসূচিতে চন্দ্রবাবু বলেন,'আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তৃতীয় সন্তানের জন্মের পর ৩০ হাজার টাকা এবং চতুর্থ সন্তানের ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিশদ রূপরেখা প্রকাশ করা হবে'।
সন্তানের সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা করে নেপথ্যের কারণও জানিয়েছেন চন্দ্রবাবু। তাঁর ব্যাখ্যা,'অন্ধ্রপ্রদেশে জন্মহার লাগাতার কমছে। বিশ্বজুড়ে এটা স্বীকৃত পদ্ধতি, কোনও রাজ্য বা দেশের জনসংখ্যা তখনই স্থিতিশীল থাকে যখন প্রতি মহিলার গড় জন্মহার থাকে ২.১'। চন্দ্রবাবু যোগ করেন,'এই হার আরও নীচে নেমে গেলে রাজ্যের অর্থনীতির ওপর বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন,'আজকাল বহু দম্পতি মাত্র একটি সন্তান নিতেই বেশি আগ্রহী। আয় বাড়ার কারণে তাঁরা ভাবছেন একটি সন্তানই যথেষ্ট। আবার অনেকে প্রথমটি কন্যাসন্তান হলে তবেই দ্বিতীয় সন্তানের কথা ভাবছেন। এই মানসিকতার জেরেই জনসংখ্যা বাড়ছে না'।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিমত,'অনেকেই ভাবেন সন্তান লালন-পালন করাটা একটা বোঝা। কিন্তু এই ভাবনাটাই ভুল। সন্তান আসলে সম্পদ। যা দেশ এবং পরিবার দুইয়ের জন্যই লাভজনক'। নিজের এই কথা প্রমাণ করে দেখাবেন বলেও প্রত্যয়ী অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী।