
রান্নার জ্বালানি হিসেবে এবার ইথানল ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেজন্য ইতিমধ্যেই নীতিমালার খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এর উদ্দেশ্য , গৃহস্থালীর কাজে এলপিজির (LPG) পাশাপাশি ইথানলকেও গ্রহণযোগ্য করে তোলা।
The Economic Times-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই নীতিমালা খসড়াতে ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। সেই সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে জ্বালানি সরবরাহকারী সংস্থাগুলি এই নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নীতিমালা খসড়াটি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যেতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের পর্যাপ্ত ইথানল উৎপাদনের ক্ষমতা আছে। ইথানলের ব্যবহার বাড়লে এলপিজির উপর নির্ভরতা কমবে। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের উপায় খোঁজার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, সরকার রান্নার কাজে ব্যবহৃত ইথানলের জন্য ভর্তুকি প্রকল্পের কথা বিবেচনা করতে পারে। এই ভর্তুকি ব্যবস্থাটি এককালীন বিনিয়োগ সহায়তার মাধ্যমে অথবা দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সহায়তা দিয়ে কার্যকর করা হতে পারে। চিনি ও শস্যের গাঁজন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ইথানলকে গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহৃত পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বিকল্প হিসেবে ইতিমধ্যেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর আগেও খবর পাওয়া গিয়েছিল, সরকারের নির্দেশে ইথানল-চালিত রান্নার চুল্লি বা স্টোভের পরীক্ষামূলক ব্যবহার চালানো হচ্ছে। তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোও ইথানল-চালিত চুল্লি নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম দেখাশোনা করছে।
আরও জানা গেছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোকে 'ইথানল এটিএম' স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। সেখান থেকে ক্যানিস্টারে করে ইথানল সংগ্রহ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। তেল কোম্পানিগুলোর নিজস্ব জ্বালানি বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে এই এটিএমগুলো স্থাপন করা যেতে পারে।
'কেয়ারএজ রেটিংস'-এর মে মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক ইথানল উৎপাদন সক্ষমতা ২০ বিলিয়ন লিটার ছাড়িয়েছে। এবং চলতি অর্থবছরে আরও ৪ বিলিয়ন লিটার উৎপাদন করা যেতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১১ বিলিয়ন লিটার বার্ষিক উৎপাদন সরকারের 'ই২০' (E20) ব্লেন্ডিং বা মিশ্রণ কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, মদ্যপানীয় প্রস্তুতকারক, ওষুধ ও রাসায়নিক কোম্পানিগুলো আরও ৩ থেকে ৩.৫ বিলিয়ন লিটার ইথানল ব্যবহার করে থাকে। ফলে প্রায় ৭ বিলিয়ন লিটার উৎপাদন সক্ষমতা অব্যবহৃত থেকে যায়।
এই উদ্বৃত্ত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেমন নেপাল, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ায় ইথানল রফতানির বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে।