
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভিডিও মুছে দেওয়ার ঘটনাকে মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। মার্ক জুকারবার্গের সংস্থার গ্লোবাল টিমের কাছে তা পরিষ্কার করে দিল সংসদীয় কমিটি। এর আগে ওই মেটার তরফে ক্ষমা চাওয়া হলেও সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি মার্ক জুকারবার্গকে তিন দিনের মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলেছিল। না হলে মেটার 'সেফ হারবার' বা সুরক্ষা কবচ খোয়ানোর ঝুঁকির কথাও জানানো হয়েছিল। তারমধ্যেই হল আজকের বৈঠক। আগামিকাল আর এক দফা আলোচনার জন্য বসতে পারে দুই প্রতিনিধিদল।
সূত্রের খবর, বৈঠকে সরকারি আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশে প্রচলিক সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ভারতের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। সরকার কোনওভাবেই প্ল্যাটফর্মগুলির কাজের ধরনে হস্তক্ষেপ করতে বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে চায় না।
সরকারের তরফে বিদ্যমান নিয়মগুলি কঠোরভাবে মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পোস্টকে ইচ্ছামতো সরিয়ে দেওয়া, বেছে বেছে নিয়ম প্রয়োগ এবং আপত্তিকর বা অপমানজনক কনটেন্টের উপস্থিতি। সরকারি আধিকারিকরা জানান, এই ধরনের বিষয়গুলির সমাধান করা জরুরি।
সরকারের অবস্থান জানার পর মেটার প্রতিনিধিরা জানান, তাঁদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নীতি এবং ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা রয়েছে। ইচ্ছাকৃতভাবে বা জেনেশুনে তাঁদের প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার হতে দেওয়া হয় না।
এদিনের বৈঠকে ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে প্রচারিত বিজ্ঞাপনে সংক্রান্ত কনটেন্ট পাওয়া যাওয়ার অভিযোগে মেটা আগেই সরকারি নজরদারির মুখে পড়েছিল। গত মাসেই এই বিষয়ে সংস্থাকে নোটিস পাঠিয়েছিল কেন্দ্র।
কী নিয়ে বিতর্ক?
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনচা পার্টির নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলন চলছিল। সেই সময় একটি সেলফি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই ভিডিও কিছু সময়ের জন্য তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য তা পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়। মেটা এই ঘটনাকে 'প্রযুক্তিগত ত্রুটি' বলে দাবি করে ক্ষমাও চেয়েছিল। তবে সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত নিয়ে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে মেটার গ্লোবাল টিমকে তলব করে কেন্দ্র সরকার।