
সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে আসন পুনর্বিন্যাস বিল ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে নতুন করে। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে আগের অধিবেশনে মোদী সরকার বিলটি পাশ করাতে পারেনি। তারপর অবশ্য রাজনীতির গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। ফলে সরকার ফের বিসটি সংসদে পেশ করতে পারে বলে জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। তৃণমূল ভেঙে NCPI-তে যোগদান করা সাংসদরা NDA শিবিরের সঙ্গেই থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে কি কাকলি এবং কোং সমর্থন জানাবে ডিলিমিটেশন বিলকে? কেন্দ্রের কাছে যে ক'জন সাংসদ কম রয়েছে, প্রায় সমসংখ্যক সাংসদ রয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূলে। সেক্ষেত্রে কি দুইয়ে দুইয়ে চার হতে চলেছে বাদল অধিবেশনে? রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে।
নতুন করে আনা হবে ডিলিমিটেশন বিল?
জল্পনা চলছে,২০ জুলাই থেকে ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত চলা সংসদের বাদল অধিবেশনেই সরকার ফের ওই বিলটি পেশ করতে পারে। প্রস্তাবিত ওই বিলে লোকসভার আসনসংখ্যা ৮৫০ করা এবং আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হয়েছে। তবে সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নিশ্চিত ঘোষণা করা হয়নি।
২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল লোকসভায় সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় পাশ হয়নি। সংসদীয় আসনসংখ্যা বাড়ানো এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে আনা এই বিলের পক্ষে ভোট পড়েছিল ২৯৮টি, বিপক্ষে ২৩০টি। কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় বিলটি পাশ করানো সম্ভব হয়নি। এ ধরনের সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই বিশেষ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
লোকসভার হিসেব কী বলছে?
বর্তমানে লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে কমপক্ষে ৩৬০ জন সাংসদের সমর্থন, অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে NDA-র সমর্থনে রয়েছেন ২৯৮ জন সাংসদ (এর মধ্যে YSRCP-র ৪ জন সাংসদও রয়েছেন)।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, উদ্ধব ঠাকরে নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (UBT)-র ৬ জন সাংসদ একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দিয়েছেন। তাঁরা NDA-কেই সমর্থন করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তেমনটা হলে NDA-র শক্তি বেড়ে ৩২৪-এ পৌঁছে যাবে। তবুও প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৩৬টি ভোটে পিছিয়ে থাকবে NDA।
রাজনৈতিক মহলে আরও জল্পনা চলছে যে, দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (DMK)-র ২২ জন সাংসদ এবং শরদ পাওয়ার নেতৃত্বাধীন NCP (SP)-র ৮ জন সাংসদ সরকারকে সমর্থন করতে পারেন। যদি তা হয়, তাহলে NDA-র সাংসদ সংখ্যা বেডট়ে ৩৫৪-এ পৌঁছতে পারে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা থেকে ৬টি ভোট পিছনে থাকবে।
NCPI ডিলিমিটেশন সমর্থন করবে?
উল্লেখ্য, যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সাংসদরা ডিলিমিটেশন বিলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন গত লোকসভায়, তাঁদের অধিকাংশই এবার পক্ষে দিতে পারেন বলে অনুমান। কারণ তাঁরা বর্তমানে NCPI এবং NDA-র সঙ্গে পথ চলার বার্তা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে NCPI-এর ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায় বলেন, 'এখনও আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। আগামী ১৯ তারিখ বাদল অধিবেশন শুরুর আগে আমাদের দলের বৈঠক রয়েছে। তখন আমরা বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব।' একই সঙ্গে অরূপ চক্রবর্তী এবং শর্মিলা সরকারেও জানান, NCPI এখনও ডিলিমিটেশন বিল সমর্থন করার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছয়নি।
মমতাপন্থী সাংসদরা কি NCPI-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন?
২০ জন বিদ্রোহী যোগ দিয়েছিলেন NCPI-তে। ৩ রাজ্যসভা সাংসদ যোগ দিয়েছেন BJP-তে। এদিনই ইস্তফা জমা দেওয়া কোয়েলও দেখা করেছেন BJP-র ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে। বর্তমানে মমতাপন্থী শিবিরে থাকা ৯ সাংসদের মধ্যে কেউ কি যোগাযোগ করেছেন? উত্তরে শতাব্দী বলেন, 'আপাতত আমার সঙ্গে মমতাপন্থী তৃণমূলের কোনও সাংসদ যোগাযোগ করেননি। অন্যদের সঙ্গে করেছেন কি না অবশ্য বলতে পারব না।' অরূপ চক্রবর্তীও জানান, কারও সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ হয়নি।
প্রসঙ্গত, লোকসভায় BJP-র আর ৬ জন সাংসদ প্রয়োজন এই বিল পাশ করাতে। তৃণমূলে (মমতাপন্থী) রয়েছেন ৯ জন। বাদল অবিবেশনের আগে রাজনীতি আরও জমে উঠবে কি?