
ইরান যুদ্ধের কারণে চলতি বছরে আকাশ ছুঁয়েছিল তেলের দাম। এমন পরিস্থিতিতে পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজি আমদানি করতে অনেক বেশি টাকা খরচ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে করতে চাইছে সরকার। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব মোকাবিলা করতে চাইছে। তাই দেশের কয়েকটি বৃহত্তম পাবলিক সেক্টর সংস্থায় নিজেদের শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এলআইসি), হিন্দুস্তান জিঙ্ক এবং একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শেয়ার। এমনটাই দাবি করছে ব্লুমবার্গ।
এই প্রতিবেদন দাবি করা হয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আটটি সংস্থার শেয়ার বিক্রির জন্য চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করতে চাইছে তারা। পাশাপাশি আর্থিক ঘাটতি (ফিসকাল ডেফিসিট) নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
এক্ষেত্রে সবথেকে আলোচনায় রয়েছে এলআইসি-এর ফলো-অন শেয়ার বিক্রি। এর মাধ্যমে সরকারের প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা আয় হতে পারে। পাশাপাশি হিন্দুস্তান জিঙ্কে আরও একটি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা তোলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে।
কেন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার?
সম্প্রতি ইরান ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। যার জেরে সরকারের উপর আর্থিক চাপ বাড়তে থাকে। সেই কারণেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি।
যদিও গত কয়েক সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা কমেছে। এখন হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবুও ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা বজায় থাকলে তার মোকাবিলায় বাড়তি আর্থিক জায়গা তৈরি করতে চাইছে সরকার। এমনটাই ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিসইনভেস্টমেন্ট কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা সরকারি আধিকারিকরা ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কারদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সেখানে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ, শেয়ারের মূল্য ঠিক করা এবং সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের শেয়ার বিক্রির জন্য আরও কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ব্যাঙ্কারও নিয়োগ করা হচ্ছে।
আইডিবিআই ব্যাঙ্ক বিক্রির প্রক্রিয়াও ফের শুরু হতে পারে
ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, আইডিবিআই ব্যাঙ্ককে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার বিক্রির জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বানের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে ক্রেতারা এই বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি। যার ফলে সেই প্রক্রিয়া সফল হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই লেনদেনের ক্ষেত্রে সরকার রিজার্ভ প্রাইস কমাতে পারে। নতুন দরপত্রে শুধুমাত্র আগের পর্যায়ে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলিকেই অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
ব্লুমবার্গ জানাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। এটা বিপদের কারণ। এর ফলে পড়তে থাকে নিফটি ও সেনসেক্স। যার ফলে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া এবং স্থগিত রাখা হয়। তবে সম্প্রতি কোল ইন্ডিয়া এবং এনএইচপিসি-এর শেয়ার বিক্রিতে ভালো সাড়া পাওয়া যায়। তাতেই সরকার উৎসাহিত হয়েছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ৮০,০০০ কোটি টাকার বিলগ্নিকরণ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এপ্রিল-জুন কোয়ার্টারে ভারত ইতিমধ্যেই প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে।