
ভারতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল কেন্দ্র। দুই সন্তান নীতি চালু করতে ইতিমধ্যেই একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। আজ অর্থাত্ শুক্রবার কেন্দ্র সাফ জানিয়ে দিল, দেশে দুই সন্তান নীতি লাগু করার কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের।
এদিন লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ভারতী পাওয়ার জানান, দুই সন্তান নীতি চালু করার কোনও পরিকল্পনা এখন সরকারের নেই। তাঁর কথায়, 'ভারতে জন্মের হার ১.৮-এ নেমে গিয়েছে। গড়ে দম্পতিদের ১.৮ সন্তান রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলছে, এই ধরনের নীতির উল্টো প্রতিক্রিয়া হয়। যেমন লিঙ্গ বৈষম্যের জন্য গর্ভপাত, কন্যা সন্তানকে ফেলে দেওয়া, পুত্র সন্তানের জন্য কন্যাভ্রুণ হত্যা ইত্যাদি। সেক্স রেশিয়োতে বিরূপ প্রভাব পড়ে।'
লিখিত জবাবে মন্ত্রী জানান, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ সহ অন্যান্য রাজ্যে কোনও রকম নিয়ন্ত্রণ নীতি না চাপিয়েই জন্মহার কমেছে।
কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জন্ম নিয়ন্ত্রণের নয়া নীতির পক্ষে সওয়াল করে বলেন, 'গোটা বিশ্বেই বিভিন্ন সময়ে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে উন্নয়ন ব্যাহত হয়। গত চার দশক ধরেই এই নিয়ে আলোচনা চলেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে দারিদ্রের যোগ রয়েছে। প্রত্যেক সম্প্রদায়কেই জনসংখ্যা নীতি ২০২১-২০৩০-এর খেয়াল রাখতে হবে। দুই সন্তানের মধ্যেই ব্যবধান রাখা দরকার। তাহলেই রাজ্যের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে।'
প্রসঙ্গত, ১৯৭৯ সাল থেকে চিনে জন্মনিয়ন্ত্রণে দুই সন্তান নীতি চালু ছিল। সম্প্রতি তাতে হিতে বিপরীত হয় চিনের। চিনা বিশেষজ্ঞদের রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসংখ্যা কমার ভাল দিকের সঙ্গে রয়েছে খারাপ দিকও। চিনের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিই এই বিপুল জনসংখ্যা। সস্তায় প্রচুর কর্মীর চাহিদা মেটাতে চিনে হাজির হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উত্পাদনকারী সংস্থা। হঠাত্ জনসংখ্যা অনেক হ্রাস পেলে তার প্রভাব পড়তে পারে অর্থনীতিতে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, আপাতত তিন বা তার অধিক সন্তানের নীতি আনার কথা ভাবা প্রয়োজন সরকারের। নয়তো ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।