
চিনের সম্প্রসারণবাদী মনোভাবের কারণে মাঝে মধ্যেই ভারতের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ভারতের অরুণাচল প্রদেশকে বারবার তথাকথিত 'দক্ষিণ তিব্বত' বলে দাবি করে এসেছে শি জিনপিংয়ের দেশ। তাতে উত্তেজনাও বেড়েছে। এমনকী সেই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানের নতুন নামকরণ, সীমান্তে দ্রুত অবকাঠামো গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে চিনের বিরুদ্ধে।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বছর খানেক আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈঠক করেছিলেন। সেই আলোচনার আগে থেকেই দুই দেশ কয়েক বছরের সীমান্ত উত্তেজনা কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। আর ঠিক তখন অরুণাচল প্রদেশ থেকে নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। তার জেরে দুই দেশের সম্পর্কে ফের কুপ্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
Business Today-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার নাহ জনজাতির প্রতিনিধিত্বকারী নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (NWS) অভিযোগ করেছে, গত ছয় বছরে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) স্থানীয় গ্রামবাসীদের শিকারের এলাকা এবং কৃষিজমির দিকে অগ্রসর হয়েছে।
অরুণাচল প্রদেশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া একটি স্মারকলিপিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, চিনা সেনাবাহিনী ওই এলাকাগুলিতে রাস্তা, সেনা শিবির এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। যেগুলো নাহ সম্প্রদায় ভারতের অংশ বলেই মনে করে। তারা রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রের কাছে অবিলম্বে ঘটনাস্থলে সমীক্ষা চালানোর পাশাপাশি ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থ এবং সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যগত জমির অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছে।
ঐতিহ্যগত জমিতে প্রবেশাধিকার কমার আশঙ্কা
নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির দাবি, এই কথিত অগ্রাসনের ফলে ধীরে ধীরে সেই উচ্চ পার্বত্য এলাকাগুলিতে গ্রামবাসীদের প্রবেশাধিকার কমে যাচ্ছে। অথচ সেই অঞ্চলের বাসিন্দারা সেই জায়গাগুলিতে বহু প্রজন্ম ধরে গবাদি পশু চরানো, মৌসুমি চাষাবাদ এবং শিকার করে থাকেন। কিন্তু সেখানে তাঁরা অধিকার হারাচ্ছেন। সংগঠনটির আশঙ্কা, এই অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকলে স্থানীয় মানুষের জীবিকা বিপন্ন হতে পারে। পূর্বপুরুষদের জমির সঙ্গে সম্পর্কও হারাতে পারেন।
এখনও সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই
স্মারকলিপিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির সরকারি সমীক্ষা এবং সীমান্তে পরিস্থিতির উপর আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির সরকারি সত্যতা যাচাই হয়নি। ভারত সরকার বা ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রকাশ্যে এই দাবিগুলি নিশ্চিত করেনি। অন্যদিকে, সর্বশেষ অভিযোগ নিয়ে চিনের পক্ষ থেকেও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এই অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর দীর্ঘদিনের সামরিক অচলাবস্থার পর ভারত ও চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক এবং চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ের আলোচনা দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নতির আশা জাগিয়েছিল।