
আজ ভারতে আসছেন চিনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিং। ব্রিকস সম্মেলন উপলক্ষে তিনি নয়াদিল্লি আসছেন। আর আজ প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠকও করবেন চিনের প্রেসিডেন্ট। ব্রিকসের ফাঁকেই হবে এই বৈঠক। আর সেই বৈঠকের আগে বেজিংয়ের তরফে এক বিশেষ বার্তা এসেছে। তাদের পক্ষ থেকে ‘ভাল প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক’-এর বার্তা দেওয়া হয়েছে। বেজিং জোর দিয়ে বলেছে, এশিয়ার দুই শক্তির উচিত দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বের দিকে নজর দেওয়া। সেই সঙ্গে মতপার্থক্যগুলি ‘সঠিকভাবে মোকাবিলা’ করা।
প্রসঙ্গত, চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খুব একটা ভাল অবস্থায় নেই। বিশেষত, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ এবং অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। যদিও তারপরও ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আর ভাল খবর হল, সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই সাত বছর পর ভারতে আসছেন শি জিনপিং।
ইতিমধ্যেই এই বৈঠক নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং। তাঁর মতে, দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে আরও উন্নত করার কাজ চলবে।
তিনি এক্স-এ লেখেন, ' দুই রাষ্ট্রনেতার নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য চিন ভারতের সঙ্গে কাজ করবে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হবে। এটিকে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিচালনা করা হবে। যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতা বাড়ানো, মতপার্থক্যের সঠিকভাবে মোকাবিলা করা এবং ভাল প্রতিবেশীর মতো বন্ধুত্ব ও একে অপরকে সাফল্য অর্জনে সাহায্য করতে হবে। এভাবেই পার্টনারশিপ গড়ে তোলা হবে।'
মাথায় রাখতে হবে, ভারতে ৭ বছর পর আসছেন জিনপিং। কিন্তু এই নিয়ে টানা তিন বছর বৈঠক করবেন এই দুই নেতা।
কখন ভারতে পৌঁছবেন শি?
যতদূর খবর, চিনের প্রেসিডেন্ট দুপুর ১টা নাগাদ নয়াদিল্লিতে পৌঁছবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে।
সহযোগিতায় জোর চিনের
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং-ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করেছেন।
মাও নিং-এর দাবি, ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ব্রিকস দেশগুলির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চিন। আলোচনার মাধ্যমে এবং কূটনৈতিক পথে বিরোধ মেটাতে কাজ করা হবে। একইসঙ্গে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কাজেও তাদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, চলতি ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম BRICS সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।