Advertisement

Supreme Court: 'যুব সমাজ আরশোলার মতো!' 'বিতর্কিত' মন্তব্যে ব্যাখ্যা CJI সূর্য কান্তের

দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। তিনি কি সত্যিই যুব সমাজকে 'আরশোলা' বলে কটাক্ষ করেছেন? সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি তা নিয়ে বিশদে ব্যাখ্যা করেন।

Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 16 May 2026,
  • अपडेटेड 5:28 PM IST
  • প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক
  • সত্যিই যুব সমাজকে 'আরশোলা' বলে কটাক্ষ করেছেন?
  • প্রধান বিচারপতি তা নিয়ে বিশদে ব্যাখ্যা করেন

দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শনিবার তাঁর বিতর্কিত 'আরশোলা' মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্য়া দিলেন। তিনি বলেন, 'সংবাদমাধ্যমের একাংশ আমার মৌখিক পর্যবেক্ষণকে ভুল ভাবে উদ্ধৃত করেছে এবং তা দেশের যুব সমাজের সমালোচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।'

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, 'গতকাল একটি তুচ্ছ মামলার শুনানির সময় আমার মৌখিক পর্যবেক্ষণকে সংবাদমাধ্যমের একাংশ যেভাবে ভুল ভাবে উদ্ধৃত করেছে, তা দেখে আমি ব্যথিত। আমি বিশেষভাবে সমালোচনা করেছিলাম তাঁদের, যারা ভুয়ো ও জাল ডিগ্রির সাহায্যে আইনের মতো পেশায় রয়েছে। একই ধরনের মানুষ সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য সম্মানজনক পেশাতেও ঢুকে পড়েছে, তাই তারা পরজীবীর মতো। আমি দেশের যুব সমাজের সমালোচনা করেছি, এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।' স্পষ্ট ভাবে জানালেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।

প্রধান বিচারপতি আরও জানান, তিনি দেশের যুব সমাজ নিয়ে গর্বিত এবং তাঁদের উন্নত ভারতের স্তম্ভ বলে মনে করেন। সূর্য কান্তের কথায়, 'বর্তমান ও ভবিষ্যতের মানবসম্পদ নিয়ে আমি শুধু গর্বিতই নই, ভারতের প্রতিটি যুবক-যুবতী আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এটা বললে অত্যুক্তি হবে না, ভারতীয় যুব সমাজ আমাকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান করে, আর আমিও তাঁদের উন্নত ভারতের স্তম্ভ হিসেবে দেখি।' 

এক আইনজীবীকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয় সম্পর্কিত একটি আবেদনের শুনানির সময়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে করা মন্তব্যকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

শুনানির সময়ে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আবেদনকারী আইনজীবীকে সিনিয়র অ্যাডভোকেটের মর্যাদা পাওয়ার জন্য অতিরিক্ত আগ্রহ দেখানোর কারণে ভর্ৎসনা করে এবং তাঁর আচরণ, এমনকী ফেসবুকে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আবেদনকারীকে বলে, 'সারা বিশ্বের সবাই সিনিয়র (অ্যাডভোকেট) হওয়ার যোগ্য হতে পারেন, কিন্তু অন্তত আপনি এই মর্যাদার অধিকারী নন।'

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'যদি দিল্লি হাইকোর্ট ওই আবেদনকারীকে সিনিয়র অ্যাডভোকেটের মর্যাদা দেয়, তবে তাঁর পেশাগত আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে দেবে।'

Advertisement

আইনজীবীর সোশ্যাল মিডিয়ায় আচরণের প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, 'সমাজে এমনিতেই কিছু পরজীবী রয়েছে, যারা ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে, আর আপনি তাঁদের সঙ্গে হাত মেলাতে চান?'

তিনি আরও বলেন, 'কিছু তরুণ রয়েছে যাঁরা আরশোলার মতো, যাঁদের কোনও চাকরি নেই বা কোনও পেশাতেই কোনও জায়গা নেই। তাঁদের কেউ সংবাদমাধ্যমে যায়, কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেউ RTI কর্মী বা অন্য ধরনের কর্মী হয়ে সকলকে আক্রমণ করতে শুরু করে।'

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ জোর দিয়ে জানায়, সিনিয়র অ্যাডভোকেটের মর্যাদা কোনও আইনজীবীকে দেওয়া স্বীকৃতি, যা জোর করে অর্জনের বিষয় নয়।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তোলে, 'আপনি এটার পিছনে ছুটছেন। এটা কি শোভনীয়?' একই সঙ্গে প্রশ্ন করা হয়, সিনিয়র অ্যাডভোকেটের মর্যাদা কি শুধুই অলঙ্কারের মতো স্ট্যাটাস সিম্বল হয়ে উঠেছে?

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আরও জানতে চায়, আবেদনকারীর কি অন্য কোনও মামলা সংক্রান্ত কাজ নেই এবং এমন আচরণ কি সিনিয়র অ্যাডভোকেটের মর্যাদা প্রত্যাশী কারও পক্ষে উপযুক্ত?

শুনানির সময়ে সুপ্রিম কোর্ট বহু আইনজীবীর ডিগ্রির সত্যতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে। প্রধান বিচারপতি বলেন, কালো কোট পরা বহু আইনজীবীর ডিগ্রি যাচাইয়ের জন্য CBI-কে দায়িত্ব দেওয়ার কথা আদালত বিবেচনা করছে, কারণ ওই ডিগ্রিগুলির সত্যতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া এই বিষয়ে পদক্ষেপ করবে না, কারণ 'তাঁদের ভোটের প্রয়োজন।'

সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর আবেদনকারী আইনজীবী বেঞ্চের কাছে ক্ষমা চান এবং আবেদন প্রত্যাহারের অনুমতি চান। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আবেদন প্রত্যাহারের আর্জি মঞ্জুর করে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement