
ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP-কে আগামী ২ অক্টোবর বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য অনুমতি দেয়নি মুম্বই পুলিশ। কিন্তু তাতেও দমতে রাজি নয় আরশোলারা। CJP-র প্রধান অভিজিত্ দীপকের হুঁশিয়ারি, যদি অনুমতি না মেলে, তা হলে তাঁরা জেল ভরো আন্দোলনে নামবেন।
CJP-র পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, প্রথমে ভোট দেওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হল। এ বার প্রতিবাদ করার অধিকারও ছিনিয়ে নিচ্ছে।
মানুষের কণ্ঠস্বর দমনের এই ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়
শিবাজি পার্কে ২ অক্টোবরের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য অনুমতি না মেলায় মুম্বই পুলিশের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে CJP । দলের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশের এই সিদ্ধান্ত মানুষের মতামত প্রকাশের অধিকারকে বাধা দেওয়ার আরেকটি প্রচেষ্টা। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতা অভিজিৎ দীপকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পোস্ট করে প্রতিবাদের কথা ঘোষণা করেছেন। দীপকে অভিযোগ করেন, মানুষের কণ্ঠস্বর দমনের এই ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
২ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ঘোষণা
CJP আগেই ২ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করেছিল। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পদত্যাগ না করলে এই আন্দোলন শুরু করা হবে। নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন কাজ ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরই এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশব্যাপী এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সূচনা হবে মুম্বই থেকে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই শিবাজি পার্কে সমাবেশ করার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।
কেন অনুমতি দিল না মুম্বই পুলিশ?
মুম্বই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, শিবাজি পার্কে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা সীমিত। পুলিশের বক্তব্য, জনস্বার্থ মামলা ১১৬/২০০৯-এ বম্বে হাইকোর্টের ৪ জানুয়ারি, ২০১৩ সালের সিদ্ধান্ত এবং মহারাষ্ট্র সরকারের ২০ জানুয়ারি, ২০১৬ সালের নির্দেশ অনুযায়ী শিবাজি পার্কে এই ধরনের সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। আবেদনকারী অজিঙ্কা শিন্ডেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁকে মুম্বইয়ের মধ্যে অন্য কোনও স্থান চিহ্নিত করে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশের অনুমতির জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই আবেদন নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিবাজি পার্ক একটি শান্ত এলাকা এবং একই সঙ্গে আবাসিক এলাকাও। সেখানে বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ হলে শব্দদূষণ-সহ বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে পুলিশের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে CJP বিকল্প পথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে।